বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কষ্ট বুঝে বলেই তেলের দাম বাড়ায়নি:খন্দকার মুক্তাদির
আমেরিকার নিজের তেল আছে তবুও দাম বাড়িয়েছে, বাংলাদেশ বাড়ায়নি
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:৪৩
শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় যাদের নিজেদের তেল আছে তারাও দাম বাড়িয়েছে কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে এখনো দাম বৃদ্ধি করেনি। যতক্ষন সম্ভব হবে ততক্ষন পর্যন্ত সরকার এই দাম বাড়াবে না। তিনি বলেন, জ্বালানী তেল নিয়ে এখন আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু ঘটেনি, কিন্তু আতঙ্কিত হয়ে তেল নেয়ার হিড়িকের কারনে সমস্যা তৈরী হতে পারে। তাই সবাইকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সাশ্রয়ী হওয়ার আহবান জানান তিনি। শুক্রবার একদিনের সফরে সিলেটে আসেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির। বিকেলে তার বাসভবনে সিলেটের ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন তিনি । সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শুরুতেই এলপিজির দাম বৃদ্ধি বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এলপিজি গ্যাসের দাম বেড়েছে এর কারন হলো এলপিজি গ্যাসের যে ফর্মূলায় এখানে দাম নির্ধারিত হয় । সৌদি আরবের আরামকোর একটি সিপি প্রাইজ থাকে সেটার সাথে একটা প্রিমিয়াম যোগ করে মার্কেটে প্রাইজ নির্ধারন হয়। যেখানে অরিজিন সেখানে যদি দাম বাড়ে তার প্রতিফলন এখানেও পড়বে এটাই স্বাভাবিক।
জ্বালানী তেল ইস্যুতে মন্ত্রী বলেন, যে ক্রুড অয়েলের দাম ছিলো ৫৫ থেকে ৬০ ডলার সেটা এখন ১১৬ ডলারে, তার পরও বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের পছন্দের সরকার এখনো আগের মূল্য ধরে রেখেছে। উদ্দেশ্য একটাই , মূল্য বৃদ্ধির কারনে যেন মানুষ কষ্ট না পায়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার যতক্ষন পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধি না করে দেশের পরিস্থিতি স্থীতিশীল রাখতে পারবে অর্থাৎ যতক্ষন পর্যন্ত সহ্য করতে পারবে ততক্ষন পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধিতে যাবে না।
তিনি বলেন, অন্যান্য দেশে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানী তেলের মূল্য সমন্বয় করেছে। উদাহরন দিয়ে তিনি বলেন, খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যাদের তেল আমদানী করতে হয়না, নিজেদেরই তেল । সেই দেশেই যেখানে প্রতি গ্যালন ৩ ডলার ছিলো সেখানে কোথাও ৪ আবার কোথায় ৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। বাংলাদেশ একটি দরিদ্র রাষ্ট্র যার আর্থিক সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। তারপরও মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে এই মূল্য ধরে রেখেছে এবং যতক্ষন সম্ভব ততক্ষন দাম বাড়াবে না সরকার বলে জানান , মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির ।
জ্বালানী তেল ইস্যূ শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কিনা এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, শিল্পকারখানা গুলো সাধারণত গ্যাস নির্ভর , সেখানে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করেই অণ্য হিসাব করা হয়। তাই জ্বালানী তেলের কারনে শিল্পের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারনে বিভিন্ন দেশে চাহিদা কমে যাওয়ার কারনে রপ্তানী কমেছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানী নয় , আশে পাশের প্রায় দেশের যারা পোশাক রপ্তানী করে তাদেরও এই খাতে রপ্তানী কমেছে। এটি একটি বৈশ্বিক বাস্তবতা বলে জানান তিনি।
জ্বালানী তেল নিয়ে সারা দেশে হইচই হচ্ছে এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আতঙ্ক একটি সংক্রামক বিষয়। কেউ আতঙ্কিত হতে তার চার পাশের মানুষও আতঙ্কিত হয়। তিনি বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারন নেই , আপনি পেট্রোলপাম্পে গেলে তেল পাচ্ছেন । তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, আজ পর্যন্ত তেলের কারনে কিছু কি আটকে গেছে, যায়নি। আপনি সুইচ টিপলে বিদ্যুত পাচ্ছেন । তাই সবার প্রতি আহবান আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। যদি সামনের দিকে কোন সমস্যা তৈরী হয় তবে সবাই মিলেই মোকাবেলা করবো। আতঙ্কিত হলে তো কোন অলৌকিক সমাধান আসবে না।
তিনি বলেন, এই সরকারটি মানুষের মেন্ডেট প্রাপ্ত সরকার ।সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরই রমযান মাস এসেছে। সেখানে দেশের মানুষের সহায়তায় দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক ছিলো। মানুষ আতঙ্কিত হলে বাজারে প্রভাব পড়তো। সেটা পড়েনি কারন মানুষ সচেতন ছিলো।
তিনি বলেন, জ্বালানীর উৎস গুলোতে যেহেতু সমস্যার তৈরী হয়েছে। তাই এই বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সকলকে জ্বালানী ব্যবহারে সংযমী হওয়ার আহবান জানান মন্ত্রী। যাতে করে পরবর্তীদিন গুলোতে ভালো থাকা যায়।
