যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’, হরমুজ পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি
প্রকাশ: ০৮ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৫৫
ছবি: ‘বাংলার জয়যাত্রা’
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে প্রায় এক মাসের বেশি সময় পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার পর অবশেষে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ৩১ নাবিকের সেই দমবন্ধ পরিস্থিতির অবসান হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় রাস আল খাইর বন্দর থেকে নোঙর তুলে পরবর্তী গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। আগামী বৃহস্পতিবার রাতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)-এর মালিকানাধীন এ জাহাজটি গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন বন্দরে পণ্য পরিবহন করে। ২৬ ফেব্রুয়ারি কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৮ হাজার ৮শ টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জাবেল আলী বন্দরে পৌঁছে।
তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরু হলে পণ্য খালাসে বিলম্ব ঘটে। বন্দরে ভেড়ার একদিন পরেই জাহাজ থেকে মাত্র ২০০ মিটার দূরে একটি তেল রিজার্ভারে মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটে, যা নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি করে।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় পরিকল্পিত রুট পরিবর্তন করা হয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় জাহাজটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ উপকূলে অবস্থান নেয়। এ সময় প্রায় প্রতিদিনই নাবিকরা আকাশে ড্রোন ও মিসাইলের আনাগোনা প্রত্যক্ষ করেন।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, বর্তমানে জাহাজটি হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি সাপেক্ষে প্রণালি অতিক্রম করবে। জাহাজে বর্তমানে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার রয়েছে।
জাহাজটির চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. রাশেদুল হাসান জানান, হরমুজ প্রণালি এখনো প্রায় ৩৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে। ঘণ্টায় ১২ নটিক্যাল মাইল গতিতে চললে বৃহস্পতিবার রাতের দিকে প্রণালি অতিক্রম সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন আমরা মানসিক চাপের মধ্যে ছিলাম। এখন অনেকটাই স্বস্তি ফিরে এসেছে। সবাই পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পেরেছি।’
জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ টাউন ও ডিারবান।
