ছবি: সংগৃহীত
সিলেট মহানগরীতে ট্রাফিক শৃঙ্খলা ফেরাতে সাঁড়াশি অভিযানের অংশ হিসেবে এবার অবৈধ যানবাহনের মূল উৎস- শোরুম উচ্ছেদে কঠোর অবস্থানে গেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি)।
গত এক সপ্তাহ ধরে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালিয়ে অন্তত ৪৫০টি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ৩২০টি ইজি বাইক আটক করা হয়েছে। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য করায় প্রায় ৫০০টি যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে।
রোববার এসএমপির কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে নগরীর ভেতরে গড়ে ওঠা সব অবৈধ শোরুম ও দোকান অপসারণের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ এপ্রিলের মধ্যে এসব শোরুম সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে ব্যবসায়ীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেওয়া ছয় মাসের অতিরিক্ত সময়সীমা আগামী মঙ্গলবার শেষ হচ্ছে।
এসএমপির অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানিয়েছেন, জনস্বার্থে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো শোরুম খোলা থাকলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তা উচ্ছেদ ও সিলগালা করা হবে।
পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ মনে করছে, অবৈধ যানবাহনের বিক্রয় কেন্দ্র বন্ধ করা গেলে নগরীতে এসব যানবাহনের অনুপ্রবেশ স্থায়ীভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
এদিকে পুলিশের কঠোর অবস্থানের পর অনেক ব্যবসায়ী ইতোমধ্যে তাদের মালামাল সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে নগরজুড়ে বড় ধরনের উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, ‘নগরীর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ যানবাহনের উৎসমুখ বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের পর আইন অমান্যকারী কোনো শোরুম মালিককে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।’
ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আটককৃত মোট ৭৭০টি যানবাহনের কোনো বৈধ কাগজপত্র বা চলাচলের অনুমতি নেই। জনস্বার্থ ও সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান ও উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
