https://www.emjanews.com/

15165

surplus

প্রকাশিত

২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫৭

অন্যান্য

মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ৬২ অভিবাসী আটক 

প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:৫৭

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় ৫৬ বাংলাদেশিসহ ৬২ অভিবাসীকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলাম ও পুচং এলাকায় “অপস মাহির” নামে চলে সমন্বিত অভিযান। অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানের লক্ষ্য ছিল উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প ও লজিস্টিক খাতে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের উপস্থিতি শনাক্ত ও দমন করা।

অভিযানে অংশ নেন ৬৬ জন অভিবাসন কর্মকর্তা। তাদের সঙ্গে সহায়তায় ছিলেন জাতীয় নিবন্ধন বিভাগ (জেপিএন)-এর আরও ১২ জন কর্মকর্তা। অভিযান চলাকালে দুটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানো হয়, যেখানে মোট ১১২ জন ব্যক্তিকে যাচাই করা হয়।

যাচাই-বাছাই শেষে ৬২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৫৬ জন বাংলাদেশি, ৪ জন নেপালি, ১ জন ভারতীয় এবং ১ জন ইন্দোনেশীয় নাগরিক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অভিযুক্তরা অন্য কোম্পানির নামে ইস্যুকৃত অস্থায়ী কর্ম ভিসা (পিএলকেএস) ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন করছিল। তারা মূল নিয়োগকর্তার পরিবর্তে ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন, যা ভিসা অপব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ। এ ঘটনায় দায়িত্বজ্ঞানহীন নিয়োগকর্তার সম্পৃক্ততার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

অভিবাসন বিভাগ জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু বিদ্যমান পারমিটের শর্ত লঙ্ঘন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা। এর পেছনে বড় কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে আরও তদন্ত চালানো হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে প্রধান অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে- বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা (ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এর ধারা ৬(১)(সি)), অনুমোদিত সময়সীমার বেশি অবস্থান করা (ধারা ১৫(১)(সি)) এবং পাসপোর্ট ও পারমিটের অপব্যবহার (ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ এর বিধি ৩৯(বি))।

এছাড়া তদন্তে সহায়তার জন্য তিনটি ‘চার্জ টু উইটনেস’ (ফরম ২৯) জারি করা হয়েছে। আটক বিদেশি নাগরিকদের সেমেনিয়াহ ইমিগ্রেশন ডিপো ও কেএলআইএ-তে রাখা হয়েছে, যেখানে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়া ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, দেশের আইন লঙ্ঘনকারীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না- তা বিদেশি শ্রমিক হোক কিংবা নিয়োগকর্তা। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।