সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে একদিনে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা বিভাগজুড়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মারা যাওয়া তিন শিশুর মধ্যে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং একজনের মৃত্যু হয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। তাদের বয়স ছিল পাঁচ থেকে সাত মাসের মধ্যে। সর্বশেষ এই তিনজনসহ সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩ জনে।
মারা যাওয়া শিশুদের পরিচয় অনুযায়ী, সিলেট মহানগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আবদুল মুমিনের ছেলে মাহাদি হাসান (৫ মাস), সুনামগঞ্জ জেলার দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার সুন্নাহ মিয়ার ছেলে মুসতাকিন (৬ মাস) এবং সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর থানার সুরেশনগর এলাকার জাকারিয়ার মেয়ে জারা (৭ মাস)।
একই সময়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় নতুন করে একজন হাম আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে বিভাগে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪২ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিলেটে ল্যাব টেস্টের সুযোগ সীমিত থাকায় উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসা রোগীদের প্রাথমিকভাবে হামের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কারও অবস্থা গুরুতর হলে তার নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৫৩ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৯ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৮ জন ভর্তি রয়েছে। এছাড়া রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন এবং ফেঞ্চুগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে ভর্তি হয়েছে।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট ২৪১ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০৪ জন রয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৮ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৭ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ জন এবং সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এছাড়া বাহুবল ও শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন করে, আজমিরিগঞ্জ, জামালগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন করে চিকিৎসা নিচ্ছে। আরও কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুইজন করে এবং কিছু স্থানে একজন করে রোগী ভর্তি রয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
