ছবি: সংগৃহীত
টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার চাউলধনী হাওড়সহ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুরের বিভিন্ন হাওড়ে তলিয়ে গেছে কৃষকদের স্বপ্নের বোরো ধান। কয়েক দিন ধরে পানির নিচে থাকায় ধান কাটতে না পেরে চরম হতাশায় দিন কাটছে কৃষকদের। অন্যদিকে, বৃষ্টির আগে কাটা ধানও রোদ না থাকায় শুকাতে না পারায় চারা গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে শত শত মণ ধান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বনাথ উপজেলার চাউলধনী হাওড়ে প্রায় ৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। সেখান থেকে প্রতিবছর কয়েক হাজার টন ধান উৎপাদিত হয়। তবে টানা বৃষ্টিতে প্রায় ১২ দিন ধরে হাওড়ের ৭৫ শতাংশ বোরো ধান ২ থেকে ৩ ফুট পানির নিচে রয়েছে। এতে কৃষকরা ধান কাটতে না পেরে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
হাওড়পাড়ের কৃষকদের অভিযোগ, সময়মতো পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে এমন ক্ষতি হতো না। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে পানি অবকাঠামো নির্মাণের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
কৃষকদের দাবি, ২০২১-২২ অর্থবছরে মৎস্য আহরণের জন্য হাওড়ের বিল ও গর্ত খননে প্রায় ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা ছিল লোক দেখানো। ফলে পানি নিষ্কাশনের কোনো সুফল মেলেনি। চাউলধনী হাওড়ের সঙ্গে সংযুক্ত মাকুন্দা ও চরচন্ডি নদীসহ কয়েকটি খাল ভরাট হয়ে থাকায় পানি নামার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
বিশ্বনাথ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘হাওড়ের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বছর চাউলধনী হাওড়ে ১ হাজার ২০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, এর মধ্যে ৯৫ হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়েছে। বাকিগুলো কৃষকরা বৃষ্টির আগেই কেটে ফেলেছেন।’
এদিকে, দুই দিন ধরে রোদ ওঠায় সুনামগঞ্জের হাওড়াঞ্চলে কৃষক-কৃষাণীরা ধান শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভেজা ও চারা গজানো ধান থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালেও সেটি উপেক্ষা করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ধান শুকানোর কাজে নেমেছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের পাশে এবং বিভিন্ন খলায় নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধরা ধান শুকাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, জেলার ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমির মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০ হাজার ১৬০ হেক্টর জমি পানিতে ডুবে গেছে। এর মধ্যে ১৬ হাজার ৪০১ হেক্টর জমির ধান চূড়ান্তভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়া, মই ও পিংলার হাওড়সহ ছোট-বড় ১৫টি হাওড় পানির নিচে রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা বোরো ধানের প্রায় অর্ধেকই তলিয়ে গেছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাওসার আহমেদ বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, ‘দ্রুত ধান ঘরে তুলতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
হাওড়াঞ্চলের কৃষকদের দাবি, দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করে আর্থিক সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
