https://www.emjanews.com/

16151

politics

প্রকাশিত

০৬ জুন ২০২৬ ২১:২৮

রাজনীতি

জামায়াতের জোটে ভাঙনের ঢেউ, দ্বিতীয় শরিকের বিদায়

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ ২১:২৮

ছবি: সংগৃহীত

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আবারও ভাঙনের সুর শোনা যাচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পর এবার বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনও জোট থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। দলটির নেতারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক আদর্শ, নির্বাচনি সমঝোতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় মতপার্থক্যের কারণেই তারা কার্যত জোট থেকে বেরিয়ে এসেছেন।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী বলেন, ‘প্রথমত এটি ছিল একটি নির্বাচনি সমঝোতা। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আমাদের সঙ্গে সমঝোতা না হওয়ায় আমরা আলাদাভাবে নির্বাচন করেছি। সে সময় থেকেই এক অর্থে আমরা জোটের বাইরে ছিলাম।’

তিনি আরও জানান, নির্বাচনের সময় থেকে তাদের দল ১১ দলীয় জোটের কোনো বৈঠক বা কর্মসূচিতে অংশ নেয়নি।

খেলাফত আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, জোট গঠনের পর থেকেই জামায়াতে ইসলামী একক আধিপত্য বজায় রেখেছে। বিভিন্ন বিষয়ে জোটসঙ্গীদের মতামত উপেক্ষা করে নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এমনকি কর্মসূচি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও জোটভুক্ত দলগুলোর সঙ্গে পর্যাপ্ত আলোচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ তাদের।

দলটির নেতারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রায় ১০টি আসনে ছাড় চাইলেও জামায়াতে ইসলামী তাদের একটি আসনও ছেড়ে দেয়নি। বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি জোটে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করেছে দলটি।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব ইউসুফ সাদিক হক্কানী বলেন, ‘আমাদের সমঝোতা ছিল মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। নির্বাচন শেষ হয়েছে, পাশাপাশি আসন সমঝোতার বিষয়েও কোনো ঐকমত্য হয়নি। আগামী ১০ তারিখে মজলিসে আমেলার বৈঠকে জোটে থাকা না থাকার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত করা হবে।’

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের ইসলামপন্থী দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের আলোচনা শুরু হয়। সেই ধারাবাহিকতায় কয়েকটি ইসলামি দলকে নিয়ে প্রথমে ‘আন্দোলনরত আট দল’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম গঠিত হয়। পরবর্তীতে নির্বাচনি সমঝোতা ও রাজনৈতিক কৌশলের অংশ হিসেবে তা সম্প্রসারিত হয়ে ১১ দলীয় জোটে রূপ নেয়।

‘ওয়ান বক্স পলিসি’ বা প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার কৌশলকে সামনে রেখে গঠিত এই জোট জাতীয় নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। তবে শুরু থেকেই আসন ভাগাভাগি ও নেতৃত্বের প্রশ্নে জোটের অভ্যন্তরে টানাপোড়েন ছিল।

বিশেষ করে জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির ভিত্তিতে আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। দীর্ঘ আলোচনা ও দর-কষাকষির পরও সমঝোতা না হওয়ায় চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জোট থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামী আন্দোলনের পর বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের সরে যাওয়ার ঘোষণায় জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের ভবিষ্যৎ ও কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আগামী দিনে জোটের অন্যান্য শরিক দলের অবস্থানও রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।