https://www.emjanews.com/

16155

national

প্রকাশিত

০৬ জুন ২০২৬ ২২:১৯

জাতীয়

বিতর্ক ও কর্মদক্ষতা যাচাইয়ে এসপিদের ওপর নিবিড় নজরদারি

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ ২২:১৯

ছবি: সংগৃহীত

জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব পালনকারী জেলা পুলিশ সুপারদের (এসপি) কর্মকাণ্ডের ওপর সরকারের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর পৃথকভাবে তাদের কর্মদক্ষতা, জনসম্পৃক্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা মূল্যায়ন করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কোনো জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ উঠলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত এক মাসে চার জেলার পুলিশ সুপারকে প্রত্যাহার করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মো. মাহফুজ আফজালকে প্রত্যাহার করা হয়। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাকে দায়িত্বভার হস্তান্তর করে পুলিশ সদর দপ্তরে রিপোর্ট করতে বলা হয়। তবে আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ করা হয়নি।

ছয় মাস আগে ঝিনাইদহের এসপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মাহফুজ আফজালের দায়িত্বকালে জেলায় দুটি রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড, সামাজিক বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা এবং সর্বশেষ গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যুর ঘটনা আলোচনায় আসে।

এর আগে ফেনীর মোহাম্মদ মাহবুব আলম খান, পঞ্চগড়ের মো. মিজানুর রহমান এবং মৌলভীবাজারের মো. রিয়াজুল ইসলামকেও প্রত্যাহার করা হয়। দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর মতে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি পুনর্গঠন, জনআস্থা ফিরিয়ে আনা এবং পেশাদারিত্ব প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, জেলা পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়নের আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিষয়ে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদন নেওয়া হয়। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং বিভিন্ন মামলায় জড়িত থাকার বিষয়ও যাচাই করা হয়।

এদিকে একের পর এক এসপি প্রত্যাহারের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কার্যক্রম আগের চেয়ে বেশি পর্যবেক্ষণের মধ্যে রয়েছে এবং কোনো অভিযোগ বা বিতর্ক সামনে এলেই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে।

তবে কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মনে করেন, প্রত্যাহারের কারণ স্পষ্ট না হলে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।

সাবেক মহাপুলিশ পরিদর্শক (আইজিপি) আশরাফুল হুদা বলেন, প্রত্যাহারের কারণগুলো স্বচ্ছ হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগ যদি বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে নিয়ম অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থাও গ্রহণ করা উচিত। একই সঙ্গে কর্মদক্ষতার নির্দিষ্ট মানদণ্ড ও জবাবদিহির কাঠামো আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, গত ১৫ মে মৌলভীবাজারের তৎকালীন এসপি মো. রিয়াজুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে পদায়নকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে, যা পুলিশ সদর দপ্তরের নজরে আসে।