https://www.emjanews.com/

16153

sports

প্রকাশিত

০৬ জুন ২০২৬ ২১:৫৯

খেলাধুলা

ফিফা বিশ্বকাপ

চোটের ভান করলেই শাস্তি: ইকোনমিস্টের অদ্ভুত যত প্রস্তাব

প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬ ২১:৫৯

ছবি: প্রতীকী।

ফুটবলকে বলা হয় ‘দ্য বিউটিফুল গেম’ বা সুন্দর খেলা। তবে কখনো কখনো এই সুন্দর খেলাই হয়ে ওঠে একঘেয়ে ও বিরক্তিকর। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে হার এড়ানোর মানসিকতায় অনেক দল রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নেয়, ফলে ম্যাচের রোমাঞ্চ কমে যায়।

আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হচ্ছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে ১০৪ ম্যাচের এই মহাযজ্ঞ চলবে প্রায় সাড়ে ছয় সপ্তাহ। এমন বিশাল আসরের আগে ফুটবলকে আরও আকর্ষণীয় ও বিনোদনমুখী করতে নানা ধরনের আলোচনা আবারও সামনে এসেছে।

আর্সেনালের সাবেক কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ভেঙ্গার ইতোমধ্যে অফসাইড নিয়মে পরিবর্তন এবং থ্রো-ইনের পরিবর্তে ‘কিক-ইন’ চালুর মতো প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে বিখ্যাত সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট ফুটবলকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলতে কয়েকটি ব্যতিক্রমী ও মজার ধারণা সামনে এনেছে।

প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—ম্যাচে কোনো দল যদি তিনবার গোলপোস্ট বা ক্রসবারে বল লাগাতে পারে, তাহলে সেটিকে একটি গোল হিসেবে গণ্য করা। এতে দলগুলো আরও বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে উৎসাহিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরেকটি আলোচিত প্রস্তাব হলো, বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া দেশগুলোর সেরা খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি ‘নিউট্রাল টিম’ বা নিরপেক্ষ দল গঠন করা। এর ফলে আর্লিং হালান্দ কিংবা মোহাম্মদ সালাহর মতো বিশ্বমানের তারকারা বিশ্বকাপ থেকে বাদ পড়লেও দর্শকরা তাদের খেলা উপভোগের সুযোগ পাবেন।

গোলকিপারদের জন্যও রয়েছে কঠিন নিয়মের ভাবনা। ম্যাচ যত এগোবে, গোলকিপারদের হাত ব্যবহারের সুযোগ তত কমে আসবে। এমনকি ইনজুরি টাইমে এসে তাদের কেবল মুখমণ্ডল ব্যবহার করে বল প্রতিহত করার অনুমতি দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

ফুটবলে ‘ডাইভিং’ বা চোটের ভান দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়। এ অভ্যাস বন্ধ করতে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে চোটের অভিনয় করলে পরবর্তী ফাউলের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে শাস্তি না দেওয়ার সুযোগ রাখা যেতে পারে।

দর্শকদের সম্পৃক্ত করতে আরও একটি অভিনব ধারণা দেওয়া হয়েছে। ম্যাচের প্রথমার্ধে লটারির মাধ্যমে গ্যালারি থেকে একজন দর্শককে বেছে নিয়ে ১০ মিনিটের জন্য মাঠে খেলতে নামানো হবে। তিনি কোন দলকে সমর্থন করেন, সেটিও গোপন থাকবে।

কর্নার কিকের সময় ডি-বক্সে খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি ও টানাটানি বন্ধ করতে একটি হাস্যরসাত্মক প্রস্তাবও রয়েছে। কর্নার নেওয়ার সময় কিকারসহ মাঠের সব খেলোয়াড়ের চোখে পট্টি বেঁধে দেওয়া হবে এবং বল মাঠের বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত খেলা চলতে থাকবে।

এছাড়া অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক ও একঘেয়ে ফুটবলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে ভিএআরকে ‘বোরিং পেনাল্টি’ দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। কোনো দল যদি দীর্ঘ সময় ধরে কেবল সময়ক্ষেপণমূলক পাস খেলে, তাহলে প্রতিপক্ষ দলকে পেনাল্টি উপহার দিতে পারবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি।

রোমাঞ্চ আরও বাড়াতে মাঠে একই সময়ে দুটি বল দিয়ে খেলা পরিচালনার ধারণাও সামনে আনা হয়েছে। যদিও এমন পরিস্থিতিতে রেফারি ও ধারাভাষ্যকারদের কাজ কতটা কঠিন হয়ে উঠবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।

গোল উদযাপনেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কোনো খেলোয়াড় গোল করার পর যদি ব্যতিক্রমী ও সৃজনশীল উদযাপন করেন, তাহলে রেফারি তার আগের একটি হলুদ কার্ড মওকুফ করে দিতে পারবেন।

অবশ্য এসব প্রস্তাব বাস্তবে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তবে ফুটবলকে আরও আকর্ষণীয় ও দর্শকবান্ধব করতে এমন সাহসী, ব্যতিক্রমী এবং কল্পনাপ্রসূত চিন্তাভাবনা যে নতুন আলোচনার জন্ম দিচ্ছে, তা নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কমতি নেই।