সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের পর দা দিয়ে স্ত্রী ও শাশুড়িকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। রবিবার (৭ জুন) রাতে উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের জায়ফরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে আটক করে।
আটককৃত ব্যক্তি ছানু মিয়া (৩৫)। তিনি হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার মিসকিনপুর গ্রামের মৃত ফয়জুর রহমানের ছেলে এবং আহত রেশমা বেগম (৩০) এর স্বামী। আহত অপর ব্যক্তি আজিরুন বেগম (৬৫), তিনি রেশমা বেগমের মা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেশমা বেগম ও ছানু মিয়ার বিয়ে হয় কয়েক বছর আগে। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের প্রথম দিকে সম্পর্ক স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তীতে পারিবারিক কলহের কারণে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে তারা আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন। পরে রেশমা বেগম সন্তানদের নিয়ে ওসমানীনগরের তাজপুর স্কুল রোড এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন।
ঘটনার দিন রবিবার রাতে ছানু মিয়া তার দুই সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী রেশমা বেগমের বাসায় যান। এ সময় পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় ছানু মিয়া দা দিয়ে রেশমা বেগম ও তার মা আজিরুন বেগমকে আঘাত করেন। তাদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মোরশেদুল হাসান ভূইয়া বলেন, স্বামীর হাতে স্ত্রী ও শাশুড়িকে হত্যাচেষ্টার একটি ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ছানু মিয়াকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে সোমবার (৮ জুন) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
