বসুন্ধরার পাঁচ সংবাদমাধ্যমে প্রশাসক নিয়োগের আবেদন
রিটের হুঁশিয়ারি আইনজীবীর
প্রকাশ: ০৮ জুন ২০২৬ ১৯:০৬
ছবি: সংগৃহীত
বসুন্ধরা গ্রুপের মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার অধীনে পরিচালিত পাঁচটি সংবাদমাধ্যমে ‘নিয়ন্ত্রণ ও পেশাদারত্ব ফেরাতে’ সরকারি প্রশাসক নিয়োগের আবেদন জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম সারওয়ার হোসেন।
সোমবার (৮ জুন) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান এবং ঢাকা জেলা প্রশাসক বরাবর এ আবেদন জমা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আইন, স্বরাষ্ট্র, ভূমি ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
আবেদনে বলা হয়, ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার অধীনস্থ সংবাদমাধ্যমগুলো পেশাদারত্ব হারিয়ে ‘মাফিয়াতন্ত্রের হাতিয়ার’ এবং ‘দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে’ জড়িত রয়েছে। পাশাপাশি বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে নদী-নালা ও জলাভূমি দখল, আবাসিক এলাকায় চাঁদাবাজি, রাজউকের প্ল্যান জালিয়াতি এবং ব্যাংক ঋণের অর্থ বিদেশে পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্ট এনেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এম সারওয়ার হোসেন বলেন, ‘বসুন্ধরার মালিকানাধীন ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়ার নিয়ন্ত্রণে কালের কণ্ঠ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দ্য ডেইলি সান, নিউজ টোয়েন্টিফোর এবং বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর রয়েছে।’
গ্রুপটির চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের ভেতরে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।’ জমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, সরকারি বিপুল পরিমাণ জমি দখলের বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
এছাড়া বসুন্ধরা গ্রুপের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি।
সারওয়ার হোসেনের দাবি, নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে এবং সমালোচকদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতে সংবাদমাধ্যমগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললেই পাঁচটি মিডিয়া ব্যবহার করে একযোগে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করা হয়।”
তবে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের দায়ী না করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকরা অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে এসব প্রচারণা চালাচ্ছেন।’
প্রশাসক নিয়োগ হলে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম বন্ধের পক্ষে তিনি নন। বরং এগুলো চালু রেখেই পেশাদারিত্ব ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসক নিয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করেন।
প্রেস কাউন্সিলে না গিয়ে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রেস কাউন্সিলের ক্ষমতা সীমিত এবং তারা কেবল সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে।
এদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে এ আবেদনের বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হবে বলেও ঘোষণা দেন এম সারওয়ার হোসেন।
