https://www.emjanews.com/

16342

sports

প্রকাশিত

১৩ জুন ২০২৬ ১২:০৪

খেলাধুলা

নতুন স্বপ্নে আজ ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন শুরু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ ১২:০৪

বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল। ফুটবলের সবচেয়ে সফল দলটির নাম উচ্চারিত হলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাঁচটি সোনালি তারকা, অসংখ্য কিংবদন্তি আর শৈল্পিক ফুটবলের এক সমৃদ্ধ ইতিহাস। তবে সময় বদলেছে। বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে এখন আর একক আধিপত্য নেই সেলেসাওদের। ফলে এবার বিশ্বকাপের আগে ব্রাজিলকে শিরোপার প্রধান দাবিদার হিসেবেও দেখছেন না অনেক বিশ্লেষক।

অদ্ভুতভাবে এটিই হয়তো ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় স্বস্তি। দীর্ঘদিন পর তারা মাঠে নামছে তুলনামূলক কম প্রত্যাশা ও কম চাপ নিয়ে। খেলোয়াড়দের ওপর নেই ‘অবশ্যই চ্যাম্পিয়ন হতে হবে’; এমন তীব্র মানসিক বোঝা। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, স্বপ্ন দেখছে না দলটি। বরং ২০০২ সালের পর থেকে অধরা হয়ে থাকা বিশ্বকাপ ট্রফি ঘরে ফেরানোর লক্ষ্যেই নতুন অভিযানে নেমেছে ব্রাজিল।

এই মিশনের নেতৃত্বে আছেন কিংবদন্তি ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। ক্লাব ফুটবলে প্রায় সবকিছু জয় করা এই কোচের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত শিরোপা ব্রাজিলকে এনে দেওয়া। আর দায়িত্বের ভার কতটা, তা বোঝাতে গিয়ে দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার মজার ছলেই বলেছেন, ‘ব্রাজিলের কোচ হওয়া যেন দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেয়েও বেশি চাপের।’

চতুর্থ বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া অ্যালিসনের এই মন্তব্যে লুকিয়ে আছে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের বাস্তবতা। কারণ দেশটিতে ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি আবেগ, সংস্কৃতি এবং জাতীয় পরিচয়ের অংশ। তাই বিশ্বকাপে ব্রাজিলের প্রতিটি পদক্ষেপ কোটি সমর্থকের প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে।

অতীত অবশ্য এখন আর খুব বেশি স্বস্তি দেয় না সেলেসাওদের। ২০০২ সালে সর্বশেষ বিশ্বকাপ জয়ের পর কেটে গেছে প্রায় আড়াই দশক। এই সময়ে মাত্র একবার সেমিফাইনালে উঠতে পেরেছে তারা। আর ২০১৪ সালে নিজেদের মাটিতে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিধ্বংসী হার এখনও ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে আছে।

তবু নতুন প্রজন্ম বিশ্বাস করে, এবার ইতিহাস বদলানোর সময় এসেছে। দলের অন্যতম প্রধান তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও সেই বিশ্বাসের কথাই জানিয়েছেন। তার ভাষায়, ‘আমরা এখানে ইতিহাস বদলাতে এসেছি। ব্রাজিলকে আবার সেই জায়গায় ফিরিয়ে নিতে চাই, যেখানে তাদের থাকার কথা;  বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে।’

সেই লক্ষ্য নিয়েই আজ রাতে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো। প্রথম ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আনচেলত্তির দলকে। কাতার বিশ্বকাপে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়া মরক্কো ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে তারা আর কোনো অঘটনের দল নয়, বরং বিশ্ব ফুটবলের শক্তিশালী প্রতিযোগী।

দুই দলের সর্বশেষ সাক্ষাৎও সুখকর নয় ব্রাজিলের জন্য। ২০২৩ সালে প্রীতি ম্যাচে মরক্কোর কাছে পরাজিত হয়েছিল সেলেসাওরা। এছাড়া হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজসহ ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ে খেলা বেশ কয়েকজন ফুটবলারকে নিয়ে গড়া দলটি বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সংগঠিত ও আত্মবিশ্বাসী দল হিসেবে বিবেচিত।

ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের অবস্থান কাছাকাছি। ব্রাজিল ষষ্ঠ, মরক্কো সপ্তম। তাই প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না আনচেলত্তি। অভিজ্ঞ এই কোচের মতে, আধুনিক ফুটবলে কোনো ছোট দল নেই, আর মরক্কোর মতো দলের বিপক্ষে প্রতিটি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হবে।

তবে পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলে। ১৯৩৪ সালের পর থেকে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে টানা ২০ ম্যাচ অপরাজিত রয়েছে তারা। সেই ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি জয় দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করার লক্ষ্য থাকবে সেলেসাওদের।

ফেভারিটের তকমা না থাকলেও ব্রাজিলকে কখনোই হিসাবের বাইরে রাখা যায় না। কারণ ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রতিভার মিশেলে গড়া এই দলটি জানে কীভাবে বড় মঞ্চে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে হয়। আর সেই বিশ্বাস নিয়েই আজ রাতে নতুন স্বপ্নের যাত্রা শুরু করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।