https://www.emjanews.com/

16355

national

প্রকাশিত

১৩ জুন ২০২৬ ১৯:৫৭

জাতীয়

মে মাসে সড়কে ঝরলো ৬২২ প্রাণ, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাই বেশি

আহত ১ হাজার ৬৫২, সড়ক-রেল-নৌপথে এক মাসে প্রাণ গেল ৬৭১ জনের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ ১৯:৫৭

ছবি: সংগৃহীত

দেশে গত মে মাসে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত ও ২৯ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়া নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১৫ জন আহত এবং ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

শনিবার (১৩ জুন) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মে মাসে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে মোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। তবে সংবাদমাধ্যমে স্থান না পাওয়া অনেক ঘটনার কারণে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, মে মাসে ২২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত ও ২১৯ জন আহত হয়েছেন। যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩৭ দশমিক ১৩ শতাংশ।

বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। সেখানে ১৮০টি দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৭টি দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত এবং ৬৭ জন আহত হয়েছেন।

দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ৯৩ জন নারী, ৬৮ জন শিশু, ৮ জন শিক্ষক, ৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ২ জন চিকিৎসক, ৩ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ জন আইনজীবী এবং ৩ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ১৩৬ জন চালক, ১১০ জন পথচারী, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৬৯ জন নারী, ৫৯ জন শিশু, ৪৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮ জন শিক্ষক, ২ জন পুলিশ সদস্য, ২ জন বিজিবি সদস্য, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ জন আইনজীবী এবং ৩ জন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

যানবাহনভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় জড়িত ৯৭৫টি যানবাহনের মধ্যে ২৮ দশমিক ৬৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩ দশমিক ১০ শতাংশ ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪ দশমিক ৪৫ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৯৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক, ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা এবং ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ কার, জিপ ও মাইক্রোবাস।

দুর্ঘটনার কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট দুর্ঘটনার ৪২ দশমিক ০৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষে, ৩২ দশমিক ৩০ শতাংশ গাড়িচাপা বা ধাক্কায়, ১৮ দশমিক ৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ অন্যান্য কারণে, ০ দশমিক ৩২ শতাংশ ওড়না চাকায় পেঁচিয়ে এবং ০ দশমিক ৮১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটেছে।

এছাড়া দুর্ঘটনার ৪৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০ দশমিক ৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৮ দশমিক ১০ শতাংশ ফিডার সড়কে সংঘটিত হয়েছে।

ঢাকা মহানগরীতে মোট দুর্ঘটনার ৫ দশমিক ২২ শতাংশ, চট্টগ্রাম মহানগরীতে ০ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং রেলক্রসিংয়ে ০ দশমিক ৮১ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।