https://www.emjanews.com/

16373

sports

প্রকাশিত

১৩ জুন ২০২৬ ২৩:২৫

খেলাধুলা

বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে ‘স্মার্ট ভেস্ট’-এর ওপর ভরসা ব্রাজিলের

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ ২৩:২৫

ছবি: সংগৃহীত

পুরুষদের ফুটবল বিশ্বকাপে অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি শিরোপা জিতেছে ব্রাজিল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলারের দেশ হিসেবে প্রতি চার বছর পরপর অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিল সবসময়ই অন্যতম ফেভারিট।

তবে গত পাঁচটি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারায় ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিল জাতীয় দল এবার প্রযুক্তির সহায়তা নিয়েছে। দলটির খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে ব্যবহার করা হচ্ছে আধুনিক ‘স্মার্ট ভেস্ট’ প্রযুক্তি, যা স্প্রিন্টের গতি, হৃদস্পন্দন, ক্লান্তির মাত্রা থেকে শুরু করে ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার অগ্রগতি পর্যন্ত নানা তথ্য সংগ্রহ করে।

উদ্দেশ্য একটাই; ব্রাজিলের প্রধান কোচ আনচেলত্তি এবং তার সহকারী দলকে যত বেশি তথ্য দেওয়া যায়, যাতে বিশ্বকাপে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়। ২৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার আগে এই তথ্যভিত্তিক প্রস্তুতি বড় ভূমিকা রেখেছে।

‘স্মার্ট ভেস্ট’ কী?

ব্রাজিলের প্রায় সব পেশাদার ফুটবলার অনুশীলন ও ম্যাচে জার্সির নিচে সেন্সরযুক্ত একটি বিশেষ ভেস্ট পরেন, যা দেখতে অনেকটা স্পোর্টস ব্রার মতো। এই ভেস্ট খেলোয়াড়দের চলাফেরা, দৌড়ের গতি, শারীরিক পরিশ্রমের মাত্রা এবং পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করে।

গত এক দশকে এই প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া অধিকাংশ দলই খেলোয়াড় পর্যবেক্ষণের জন্য ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করছে।

তবে ব্রাজিল এই ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃতভাবে কাজে লাগিয়েছে। জাতীয় দলের পাশাপাশি পুরুষ, নারী ও বয়সভিত্তিক সব দলের খেলোয়াড়দের তথ্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হয়।

ক্লাব থেকে জাতীয় দলে তথ্য আদান-প্রদান

ব্রাজিল জাতীয় দলের ক্রীড়া বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান Guilherme Passos জানান, খেলোয়াড়রা যখন জাতীয় দলের ক্যাম্পে থাকেন না, তখনও তাদের ক্লাবগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়।

তিনি বলেন, “প্রতিদিন ক্লাবগুলো আমাদের কাছে খেলোয়াড়দের ট্র্যাকিং সিস্টেমের তথ্য পাঠায়। আমরা সহজেই সেগুলো আমাদের ডাটাবেজে যুক্ত করে বিশ্লেষণ করতে পারি।”

আন্তর্জাতিক দলের জন্য এটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ বছরের বেশিরভাগ সময় খেলোয়াড়দের সঙ্গে থাকেন না। অনেক খেলোয়াড় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন লিগে খেলেন। ফলে তাদের পারফরম্যান্স তুলনা ও মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্মার্ট ভেস্ট প্রযুক্তি সেই সমস্যার সমাধান করেছে। পাসোসের ভাষায়, “খেলোয়াড়রা কোথায় আছে এবং তাদের শারীরিক অবস্থার অগ্রগতি কোন পর্যায়ে রয়েছে, আমরা তা স্পষ্টভাবে জানতে পারি।”

একাদশ নির্বাচনেও বড় ভূমিকা

এই প্রযুক্তি শুধু তথ্য সংগ্রহেই সীমাবদ্ধ নয়; একাদশ নির্বাচন, খেলোয়াড়দের পজিশন নির্ধারণ এবং কৌশলগত পরিকল্পনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনেক খেলোয়াড় ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার পর দলে যোগ দেন, আবার কেউ কেউ ক্লাব পর্যায়ে অতিরিক্ত ম্যাচ খেলে ক্লান্ত থাকেন। এসব বিষয় মূল্যায়নে ট্র্যাকিং সিস্টেমের তথ্য অত্যন্ত কার্যকর।

বিশেষ করে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি থেকে ফেরার ক্ষেত্রে খেলোয়াড়ের স্প্রিন্ট ও উচ্চগতির দৌড়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে বোঝা যায়, তিনি নিরাপদভাবে খেলতে প্রস্তুত কি না।

পাসোস বলেন, “যদি কোনো খেলোয়াড়ের খেলার মূল শক্তি গতি হয়, তাহলে তার উচ্চগতির দৌড়ের তথ্য খুব সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হয়, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে পেশি পুরোপুরি সুস্থ হয়েছে।”

কৌশল নির্ধারণেও সাহায্য

সংগৃহীত তথ্য ম্যাচের কৌশল নির্ধারণেও সহায়তা করে। কোনো খেলোয়াড় যদি খুব দ্রুতগতির হন, তাহলে তাকে কাউন্টার-অ্যাটাকভিত্তিক পরিকল্পনায় ব্যবহার করা যেতে পারে। আবার কারও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় তাকে শুরু থেকেই নামানোর পরিবর্তে বদলি হিসেবে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

পাসোস বলেন, “যদি আপনার দলে খুব দ্রুতগতির কোনো খেলোয়াড় থাকে, তাহলে কোচ এমন কৌশল বেছে নিতে পারেন যেখানে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ চালানো সম্ভব।”

বিশ্বকাপ চলাকালেও নজরদারি

বিশ্বকাপের সময়ও খেলোয়াড়রা এই ট্র্যাকিং ভেস্ট ব্যবহার করবেন। ম্যাচের মধ্যবর্তী অল্প সময়ের ব্যবধানে তাদের ক্লান্তি, শারীরিক সক্ষমতা এবং পুনরুদ্ধারের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এর মাধ্যমে কোচিং স্টাফ সহজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন; কে পরবর্তী ম্যাচে খেলার জন্য প্রস্তুত, আর কার বিশ্রাম প্রয়োজন।

প্রযুক্তির এই সহায়তাকে কাজে লাগিয়ে ২৪ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন দেখছে ব্রাজিল। ‘স্মার্ট ভেস্ট’ হয়তো মাঠে গোল করবে না, কিন্তু সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে কোচিং স্টাফকে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দেবে।