https://www.emjanews.com/

16429

surplus

প্রকাশিত

১৫ জুন ২০২৬ ২১:৫৯

অন্যান্য

শিশুদের ‘শৈশব ফিরিয়ে দিতে’ কঠোর পদক্ষেপ বৃটেনের

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ ২১:৫৯

ছবি: সংগৃহীত

১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের। একই সঙ্গে গেমিং ও লাইভ-স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এমন গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলোও নতুন বিধিনিষেধের আওতায় আসতে পারে, যেখানে শিশুদের অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, “এই আমূল পরিবর্তন শিশুদের শৈশব ফিরিয়ে দেবে।” তিনি আরও বলেন, ‘আমার কাছে এটি পরিষ্কার যে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞাই সঠিক সিদ্ধান্ত। এটি আমাদের সন্তানদের আরও নিরাপদ ও সুখী করবে, তাদের জন্য আরও সময়, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করবে।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের একাংশ এই ধরনের ঢালাও নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্টারমার নিজেও স্বীকার করেছেন, এ ধরনের বিধিনিষেধ শতভাগ কার্যকর করা কঠিন হবে।

শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে অস্ট্রেলিয়ার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চায় যুক্তরাজ্য। সরকার গেমিং প্ল্যাটফর্মের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে রাতের কারফিউ এবং দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রোলিং সীমিত করার মতো পদক্ষেপও বিবেচনা করছে।

ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ইউটিউব, ফেসবুক ও এক্স এই নিয়মের আওতায় আসবে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানের সেবাগুলো এর বাইরে থাকবে।

স্টারমার বলেন, ‘লাইভ-স্ট্রিমিং এবং শিশুদের সঙ্গে অপরিচিত ব্যক্তিদের যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।’

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘বাস্তব জীবনে এমন কোনো পরিস্থিতি কি আছে, যেখানে আপনি আপনার সন্তানকে এমন একজন সম্পূর্ণ অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশা করতে দেবেন, যার সম্পর্কে আপনি কিছুই জানেন না?’

সমর্থন যেমন আছে, তেমনি রয়েছে সংশয়

অভিভাবক ও অনেক রাজনীতিবিদ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে কিছু মনোবিজ্ঞানী ও গবেষকের মতে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তার পক্ষে এখনো যথেষ্ট প্রমাণ নেই।

লন্ডনের কয়েকজন শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক জটিল ও দ্বিমুখী। একদিকে এটি যোগাযোগ ও শিক্ষার সুযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে আসক্তি ও ঝুঁকির কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

বিভিন্ন দেশের কঠোর নীতিমালার প্রতিক্রিয়ায় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে শিশুদের নিরাপত্তা জোরদারে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে বলে দাবি করেছে।

ইউটিউব জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বয়সভিত্তিক নিরাপদ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে।

স্ন্যাপচ্যাটের মতে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কিশোর-কিশোরীদের বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। কারণ ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগ সময়ই ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানে ব্যয় হয়।

অন্যদিকে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বলেছে, অস্ট্রেলিয়ার অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে যে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা তরুণদের অনলাইন কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং তাদের এমন অনিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্মের দিকে ঠেলে দিতে পারে, যেখানে নিরাপত্তা বা অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই।