ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মধ্যেই বাংলাদেশের ফুটবলে নেমে এসেছে শৃঙ্খলাজনিত বিতর্কের ছায়া। সম্প্রতি মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত চার জাতি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে ম্যাচে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় বাংলাদেশের দুই ফুটবলার ও এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ অলিম্পিক দল ও স্বাগতিক মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে উভয় দলের খেলোয়াড়রা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, মালদ্বীপের কয়েকজন ফুটবলার মারমুখী আচরণ করেন এবং বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের ওপর শারীরিক আঘাতও করেন।
তবে ম্যাচ কমিশনারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশের ফুটবলার মিরাজুল ইসলাম এবং দলের ম্যানেজার শাহীন হাসানকে কয়েকশ’ সুইস ফ্রাঁ জরিমানা করেছে ফিফা।
এছাড়া ফুটবলার আল আমিনের আচরণও ফিফার কঠোর নজরদারির মধ্যে রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আল আমিন ও মিরাজুল ইসলাম ম্যাচ চলাকালে রেফারি এবং প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সঙ্গে অসদাচরণ করেছিলেন।
জুন মাসের ফিফা উইন্ডোতে বাংলাদেশ জাতীয় দল সান মারিনো সফরে থাকলেও একই সময়ে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত ফিফা স্বীকৃত চার জাতি টুর্নামেন্টে অংশ নেয় বাংলাদেশ অলিম্পিক দল। টুর্নামেন্টটি ফিফার অনুমোদিত হওয়ায় ঘটনার তদন্ত শেষে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে ফিফার পাঠানো চিঠি পেয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তবে স্বাগতিক মালদ্বীপের খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে ফিফা কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় বাফুফে।
ঘটনার তদন্তে বাফুফে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরি বলেন, ‘মালদ্বীপের বিষয়ে ফিফা আমাদের একটি চিঠি দিয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি এবং তদন্ত শেষে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেব।’
এদিকে শুধু মালদ্বীপ টুর্নামেন্ট নয়, ভারতে অনুষ্ঠিত নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশের একটি দলের ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের তীর নারী দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমীর দিকে। টুর্নামেন্ট চলাকালে এ বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল সংস্থা সাফ বাফুফেকে চিঠি দেয়। পরে টুর্নামেন্ট শেষে ওই অভিযোগ তদন্তে আরও একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাফুফে।
