সিলেট-লাকসাম ডুয়েলগেজ লাইনসহ ১০ জেলায় রেলসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬ ২০:০৬
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট-লাকসাম ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণসহ বাংলাদেশের আরও ১০টি জেলাকে রেল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ তথ্য জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাজধানীর সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিশেষ করে ঢাকার আশপাশের এলাকা এবং দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় রেলসেবা সম্প্রসারণের বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা, সেবার মানোন্নয়ন, চলমান প্রকল্প এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সেখানে সার্বিক রেল কানেক্টিভিটি আরও উন্নত করার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে কয়েকটি বড় প্রকল্প। এর মধ্যে রয়েছে সিলেট-লাকসাম রেলপথ এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ। পাশাপাশি ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বিদ্যমান মিটারগেজ ও ব্রডগেজ লাইনের অসামঞ্জস্য দূর করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে টঙ্গী থেকে আখাউড়া এবং সিলেট থেকে লাকসাম পর্যন্ত অংশে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি কর্ড লাইন নির্মাণের বিষয়েও সরকার এগোচ্ছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ কমে আসবে, ফলে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় উভয়ই হ্রাস পাবে।
বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলা রেল যোগাযোগের আওতায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য ধীরে ধীরে দেশের সব ৬৪টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নতুন ১০টি জেলায় রেললাইন সম্প্রসারণের সম্ভাব্য পরিকল্পনা ও রুট নিয়ে কাজ চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী উদাহরণ হিসেবে বলেন, রাজধানীর খুব কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও মানিকগঞ্জ এখনও সরাসরি রেল যোগাযোগের বাইরে রয়েছে। তাই ঢাকা-মানিকগঞ্জ কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ দ্রুত কর্মস্থলে যাওয়া-আসা করতে পারে।
এদিকে ভবিষ্যতে নতুন রেল প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে সমন্বিত পরিকল্পনার ওপর জোর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ শুধু রেললাইন নির্মাণ নয়, একই প্রকল্পের আওতায় বগি, লোকোমোটিভ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে, যাতে নির্মাণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়।
