https://www.emjanews.com/

16637

international

প্রকাশিত

২৪ জুন ২০২৬ ২১:৩৩

আন্তর্জাতিক

‘১০ হাজার বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছে’- শুভেন্দুর দাবিতে নতুন বিতর্ক

সংখ্যা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি বিভিন্ন মহলের

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ ২১:৩৩

ছবি: শুভেন্দু অধিকারী।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গত দেড় মাসে ১০ হাজার ‘অনুপ্রবেশকারীকে’ বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-এর দাবিকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। রাজ্য বিধানসভায় দেওয়া এই বক্তব্যের পর বিরোধী দল, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন।

মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গত দেড় মাসে ১০ হাজার অনুপ্রবেশকারীকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, রাজ্যের ১২টি অস্থায়ী আটককেন্দ্রে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৮০০ জন রয়েছেন এবং তাদের বিষয়ে নিয়মিত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ এর আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জনকে সীমান্ত পার করানোর কথা বলেছিলেন। একইসঙ্গে আটককেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিদের সংখ্যাও তখন তুলনামূলক কম উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে দুই সময়ের বক্তব্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, এত বড় সংখ্যক মানুষকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হলে তার প্রশাসনিক নথি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত তথ্য কিংবা সরকারি পরিসংখ্যান জনসমক্ষে থাকা উচিত। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংখ্যা জানানো হয়নি।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় পরিবারগুলোকে সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ভিডিওতে নারী ও শিশুদের নোম্যানস ল্যান্ড এলাকায় মানবিক সংকটে পড়ার দৃশ্য দেখা যায়। পরে তাদের কয়েকজনকে ফিরিয়ে এনে চিকিৎসা ও খাদ্য সহায়তা দেওয়ার খবরও প্রকাশ্যে আসে।

বিধানসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা প্রকৃত নাগরিকদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, অবৈধভাবে বসবাসকারীদের কারণে সরকারি সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী যাদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, অনুপ্রবেশের বিষয়টি সামনে এনে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পে উপকারভোগীর সংখ্যা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বিপুল সংখ্যক অনুপ্রবেশকারী সরকারি সুবিধা গ্রহণ করছিলেন—এমন কোনো তথ্য এখনো সরকার প্রকাশ করতে পারেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্ত, নাগরিকত্ব ও অনুপ্রবেশের প্রশ্ন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এ বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানবাধিকার ও অভিবাসন নীতি নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে মুখ্যমন্ত্রীর দাবির পক্ষে বিস্তারিত তথ্য ও পরিসংখ্যান প্রকাশের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করতে সরকারকে স্বচ্ছ ও যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। তবেই এই বিতর্কের অবসান সম্ভব হবে।