ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় ভারতের অভ্যন্তরে শুকনো কাঠ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়া শ্রী নিক্ক কন্দ জানী (৫৪) নামে এক বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল ৩টার দিকে সীমান্তের ১২৬০ নম্বর পিলার সংলগ্ন পাহাড়ি তুরং ছড়ার পানিতে পাথরের ফাঁকে তার মরদেহ দেখতে পান স্বজনরা।
নিহত নিক্ক কন্দ জানী উপজেলার দমদম সীমান্তঘেঁষা তুরং গ্রামের কুলিবস্তি এলাকার মৃত শুকরিয়া কন্দ জানীর ছেলে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিবি-৪৮ সিলেট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক। তিনি জানান, এ ঘটনায় বিএসএফ বা ভারতীয় খাসিয়াদের গুলির কোনো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত সীমান্তসংলগ্ন তুরং গ্রামের অনেক বাসিন্দা প্রতিদিন ভারতের অভ্যন্তরে খাসিয়াদের ফল ও সুপারি বাগানে কাজ করতে যান। কাজের বিনিময়ে তারা শুকনো কাঠ ও ফল সংগ্রহ করে থাকেন। বুধবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো কয়েকজনের সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে যান নিক্ক কন্দ জানী। তবে দুপুরের মধ্যে তার সঙ্গীরা বাড়ি ফিরলেও তিনি আর ফিরে আসেননি।
এতে উদ্বিগ্ন হয়ে তার ভাই নিখিল কন্দ জানী খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বিকেল ৩টার দিকে পাহাড়ি তুরং ছড়ার পানিতে পাথরের ফাঁকে আটকে থাকা নিক্ক কন্দ জানীর মরদেহ দেখতে পান তিনি। পরে স্বজনরা মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মরদেহের মাথা, চোখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিচ্ছিল পাথরে পা পিছলে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হতে পারে।
কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম খান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহ সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
