শিরোনাম
সবুজ গালিচায় সাম্বার তুলির আঁচড়, শেষ হাসি ব্রাজিলের তিস্তা ইস্যুতে ভারতের উদ্বেগ নাকচ, সহযোগিতা বাড়াবে চীন যাদুকাটা নদীতে বালু লুটের মহোৎসব, ধ্বংসের মুখে সীমান্তের পর্যটন নদী সিলেটে সুরমা-কুশিয়ারার পানি বাড়ছে, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা সিলেটকে আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব: বাণিজ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার সিলেটে পৌঁছাবে কাতারে দুর্ঘটনায় নিহত ৫ বাংলাদেশির মরদেহ সিলেটে উদ্ধার হওয়া ৬৮টি মোবাইল হস্তান্তর করল পুলিশ সিলেটে দেশের সবচেয়ে কম অপরাধ: আশার আলো দেখছে নগরবাসী জুলাই মাসে সিলেট নগরীতে চলাচলে মানতে হবে যেসব নির্দেশনা সিলেটে বন্যার সতর্কতা জারি

https://www.emjanews.com/

16747

national

প্রকাশিত

২৯ জুন ২০২৬ ১৩:৩৭

জাতীয়

সব্যসাচী শিল্পী ও পাপেট পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ারের প্রয়াণ

প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৬ ১৩:৩৭

বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতি জগতের উজ্জ্বল নক্ষত্র, সব্যসাচী শিল্পী ও আধুনিক পাপেট চর্চার পথিকৃৎ মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। আজ সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে একুশে পদকপ্রাপ্ত এই বরেণ্য শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) টানা কয়েকদিন ধরে তিনি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছিলেন।

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুর সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাগ্নি ও বিশিষ্ট অভিনেত্রী নিমা রহমান। তিনি জানান, কিংবদন্তি এই শিল্পীর মরদেহ হাসপাতাল থেকে প্রথমে ধানমন্ডির বাসভবনে নেওয়া হবে। পরবর্তীতে তাঁর দাফন ও শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের বিষয়ে পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতা ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। মাঝে কিছুটা উন্নতি হলেও গত রবিবার ফের অবনতি ঘটে এবং আজ সকালে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর যশোর জেলায় (বর্তমান মাগুরা) জন্মগ্রহণ করেন এই গুণী শিল্পী। প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সুযোগ্য সন্তান মুস্তাফা মনোয়ার কলকাতা সরকারি চারু ও কারুকলা কলেজ থেকে চিত্রশিল্পে স্বর্ণপদকসহ স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশে চারুশিল্পের প্রসারে নিজেকে বিলিয়ে দেন। বাংলাদেশে পাপেট বা পুতুলনাট্যের আধুনিক রূপায়ণে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। বাংলাদেশ টেলিভিশনের তুমুল জনপ্রিয় পাপেট শো ‘মনের কথা’ এবং এর চরিত্র ‘বাঘা’ ও ‘ভুতু’র মাধ্যমে তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্মের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

শিল্পের এই মহীরুহ কেবল একজন শিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন এক অকুতোভয় দেশপ্রেমিক। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলনে পোস্টার আঁকার দায়ে জেল খেটেছেন, আবার ১৯৭১-এর উত্তাল সময়ে শরণার্থী শিবিরে শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পাপেট শো নিয়ে হাজির হয়েছেন। ২৩ মার্চ ১৯৭১-এ পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা টেলিভিশনে না দেখিয়ে যে অদম্য সাহসিকতা তিনি দেখিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। শিল্পকলা ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি ‘একুশে পদক’ লাভ করেন। তাঁর প্রয়াণে বাংলাদেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হলো।