https://www.emjanews.com/

17300

surplus

প্রকাশিত

২৩ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫৭

অন্যান্য

জুলাই অভ্যুত্থান বর্ষপুর্তিতে সিলেটে খেলাফত মজলিসের সমাবেশ

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ ১৯:৫৭

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেছেন, 'বিগত দিনসমূহে সিলেটের সাথে চরম বৈষম্য করা হয়েছে। যার ফলে উন্নয়নের সব সূচকেই আমাদের সিলেট পিছিয়ে। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনা ছিল বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়া। অভ্যুত্থানোত্তর বাংলাদেশে সিলেটবাসী আর বৈষম্য দেখতে চায় না।'

তিনি ঢাকা-সিলেট রেললাইন আধুনিকায়ন, ছয় লেনের কাজ দ্রুত সম্পন্নকরণ, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে সকল দেশে ফ্লাইট পরিচালনা ও সিলেটের গ্যাস দিয়ে সিলেটের গ্রাহকদের আবাসিক চাহিদা পুরণে পদক্ষেপ গ্রহণের দাবী জানিয়ে বলেন, 'প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের রেমিট্যান্স দিয়ে দেশের রিজার্ভের সিংহভাগ যোগান হয়, সেই সিলেট উন্নয়নের দিক দিয়ে পিছিয়ে থাকবে; তা মেনে নেয়া যায় না। আমাদের মধ্যে রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকতে পারে, তবে সিলেটের উন্নয়নের জন্য আমরা সবাই একজোট। আমরা সংসদের ভিতরে সোচ্চার আছি। প্রয়োজনে সংসদের বাইরেও সোচ্চার হবো।'

মুফতি আবুল হাসান এমপি আরো বলেন, 'জুলাই আন্দোলনের চেতনা ছিলো বৈষম্য মুক্ত বাংলাদেশ গড়া, ন্যায়-ইনসাফের সমাজ গড়া এবং সকল আধিপত্যবাদ মুক্ত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার। আমরা যদি এদেশকে বৈষম্যমুক্ত না করতে পারি, যদি পারি না দেশে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে, তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনার সাথে আমরা গাদ্দারী করবো। আমরা যদি সকল আধিপত্যবাদী শক্তির মোকাবিলা করে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে না পারি, তাহলে শহীদ আবু সাঈদ,মূগ্ধ, আবরার ও হাদীর কাছে কী জবাব দেবো? আজ সময় এসেছে, দেশকে এগিয়ে নেয়ার, সুখী-সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র গড়ার। এজন্য সকল ভেদাভেদ ভূলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দল-মত,ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের কল্যাণের তরে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।'

তিনি বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রেজিস্ট্রারী মাঠে খেলাফত মজলিস সিলেট জেলা শাখার ডাকে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম-মহাসচিব  মুহাম্মদ মুনতাসির আলী ও কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আবদুল হান্নান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ মুনতাসির আলী বলেন, 'দেশের ত্রিশটি রাজনৈতিক দল সর্ব সম্মতিক্রমে যে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করলো এবং গণভোটের মাধ্যমে যে সনদ জনরায়ে পাশ হলো সেই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা চলছে। যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অবিলম্বে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।'

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষকী উপলক্ষে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, শাপলা ও জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দ্রুত শেষ করার দাবীতে এ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও সিলেট জেলা সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদের সভাপতিত্বে ও জেলা সেক্রেটারি মাওলানা দিলওয়ার হোসাইন এবং সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিন্সিপাল হাফিজ মাওলানা শিব্বির আহমদের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন, সিলেট মহানগর সভাপতি হাফিজ মাওলানা তাজুল ইসলাম হাসান, জেদ্দা মহানগর শাখার সভাপতি মাওলানা আবদুল মুকিত রুপাপুরী, সিলেট জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা মুখলিছুর রহমান, মাওলানা সৈয়দ আলী আসগর,মহানগর সহ-সভাপতি আবদুল হান্নান তাপাদার, মাওলানা শাহ আশিকুর রহমান, সিলেট জেলা সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা অলিউর রহমান, মাওলানা আশিকুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা কাজী আবদুল ওয়াদুদ, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি মুহিবুর রহমান রায়হান, সিলেট পশ্চিম জেলা সভাপতি আবদুল বাসিত, শ্রমিক মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি আবদুর রহীম প্রমূখ।

সমাবেশে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, জুলাই যোদ্ধা হাফিজ মাওলানা বিলাল আহমদ চৌধুরী, খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সহ সভাপতি মাওলানা শামসুদ্দিন মুহাম্মদ ইলয়াস, ডাক্তার ফয়জুল হক,জেলা সহ-সভাপতি শামসুল ইসলাম, মাওলানা আবদুস সালাম, মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমদ ও মাওলানা জুনায়দ আহমদ প্রমূখ।

সমাবেশ শেষে এক বিরাট গণমিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিন্দাবাজারে গিয়ে শেষ হয়।