বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬ ২১:০৩
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ বলে মন্তব্য করেছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এ দেশের সীমিত সম্পদ ও বিশাল জনসংখ্যার মধ্যেও মানুষের মাঝে যে সহমর্মিতা বিদ্যমান, তা পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশেও বিরল।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) সিলেটের উদ্যোগে আয়োজিত উল্টো রথযাত্রা মহোৎসবের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নগরীর রিকাবীবাজারস্থ ইসকন মন্দিরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি মুসলমান হিসেবে এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী, তবে প্রত্যেক ধর্মের মানুষের নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালনের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। অন্যের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমার উপস্থিতি সেই অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং তা রক্ষার অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ।” বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, গত পাঁচ মাসে মসজিদের পাশাপাশি মন্দিরের উন্নয়নেও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’ বিশেষ করে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে চালিবন্দরে আধুনিক শ্মশান কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের সিলেটের এই সম্প্রীতির ধারা আরও শক্তিশালী করা হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘সিলেট সম্প্রীতির নগরী হিসেবে পরিচিত। এখানে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদ ও স্বাধীন। এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে হবে।’
বিশেষ অতিথি ছিলেন- সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. এনামুল হক, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাইয়ুম জালালী পংকি, হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সিলেট মহানগরের সদস্য-সচিব রাজীব কুমার দে এবং ইসকন সিলেটের সমাজসেবা বিভাগের সম্পাদক বুদ্ধিগৌর দাসসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি শ্রীমৎ স্বামী ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ মহারাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ সাম্প্রদায়িক বিষবাষ্প উপড়ে ফেলে ঐক্যবদ্ধ সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
পরে বর্ণাঢ্য উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।
