ছবি: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। তাঁর পদত্যাগের পর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।
সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, শুক্রবার বিকেল ৫টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংবিধানের বিধি মোতাবেক স্পিকার হিসেবে তিনি সেই পত্র গ্রহণ করেছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গেই সংবিধানের ধারা অনুযায়ী পদটি শূন্য হওয়ায় তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করছেন। পদত্যাগপত্রটি বর্তমানে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত রয়েছে।
পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তাঁর শরীরে 'অটোনমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক একটি বিরল রোগ শনাক্ত হয়েছে, যার ফলে তিনি মাঝেমধ্যে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। শারীরিক ও মানসিকভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে তিনি বর্তমানে সামর্থ্য হারিয়েছেন এবং তাঁর দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন। পদত্যাগপত্রে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে নিজের অব্যাহতি নিশ্চিত করেন।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘ সময় অসুস্থতার সাথে লড়াই করার পর অবশেষে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন।
