শিরোনাম
ক্ষমতার পালাবদলে সিলেটের সাবেক মন্ত্রী-এমপিরা আজ কে কোথায় ১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা, সিলেট-সুনামগঞ্জে বাড়ছে নদীর পানি প্রভাষক পরিচয়ে খাতা মূল্যায়ন, আসলে কলেজের অফিস সহকারী! ‘জুলাই কার- এই বিভাজন সৃষ্টি করবেন না, তাহলে জুলাই কারও থাকবে না’ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়ায় শ্রম সংকট: আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ আনোয়ারের সিলেটে অটোরিকশা-মোটরসাইকেলের সং/ঘর্ষে প্রাণ গেলো যুবকের জ্বালানি সংকট কাটাতে আরও সময় লাগবে: সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে থামছে না হামের ছোবল, আজও দুই শিশুর মৃ / ত্যু সিলেটের মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের সভা নতুন পে স্কেল নিয়ে অনিশ্চয়তা

https://www.emjanews.com/

17582

sylhet

প্রকাশিত

০৫ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩২

সিলেট

প্রভাষক পরিচয়ে খাতা মূল্যায়ন, আসলে কলেজের অফিস সহকারী!

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩২

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার গ্রিনহিল স্টেট কলেজের এক অফিস সহকারী চার বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার পরীক্ষক হিসেবে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে আসছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে পরীক্ষক হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনায় কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড।

জানা গেছে, কলেজটির অফিস সহকারী জয়ন্ত দত্ত চলতি বছর চতুর্থবারের মতো এইচএসসি পরীক্ষার পরীক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এবার তিনি বাংলা প্রথম পত্রের ৫৫৪ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে শিক্ষা বোর্ডে জমা দিয়েছেন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের বিদায়ী চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, পরীক্ষক হতে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে হয়। এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তা গুরুতর অনিয়ম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রিনহিল স্টেট কলেজে ২০১১ সাল থেকে পাঠদান শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই জয়ন্ত দত্ত অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তিনি এমসি কলেজ থেকে পাস কোর্সে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং ২০১৯ সালে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, যে শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করেন, কেবল সেই বিষয়েই পরীক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া কলেজ পর্যায়ের পরীক্ষক হতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক।

কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, জয়ন্ত দত্ত এখনো অফিস সহকারী পদেই কর্মরত। তিনি পাস কোর্সে স্নাতক হওয়ায় বিধি অনুযায়ী প্রভাষক পদেও নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ নেই।

অভিযোগের বিষয়ে জয়ন্ত দত্ত বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি কর্মরত। ২০১৯ সালে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাস করার পর শিক্ষক সংকট থাকায় বাংলা পড়ানো শুরু করেন। প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপত্রের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়াত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার সাহার কাছে নিয়োগপত্রটি ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর সেটি কোথায় আছে, তা খুঁজে দেখতে হবে। নিজের কাছেও কোনো অনুলিপি নেই বলে জানান তিনি।

ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মন বলেন, শিক্ষক হিসেবে জয়ন্ত দত্তের নিয়োগপত্র তাঁর কাছে নেই, এটি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে। তবে পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্বিজয় চক্রবর্তী দাবি করেন, নিয়োগপত্র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছেই সংরক্ষিত আছে।

যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জয়ন্ত দত্ত কীভাবে পরীক্ষক হলেন- এ বিষয়ে কলেজসংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি জানান, বোর্ডের অনলাইন ব্যবস্থায় আবেদন করার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ সেটি অনুমোদন দিয়ে শিক্ষা বোর্ডে পাঠায়। প্রকৃত তথ্য গোপন করেই তাঁকে পরীক্ষক হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ।

তবে পরীক্ষকের আবেদন অনুমোদন নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন কলেজের দুই দায়িত্বশীল ব্যক্তি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মনের দাবি, তিনি অনুমোদন দেননি; এটি করেছেন পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্বিজয় চক্রবর্তী। অন্যদিকে দিগ্বিজয় চক্রবর্তীর দাবি, আবেদন অনুমোদন দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষই।