ছবি: নিহত সাইফুল ইসলাম।
সিলেটের আধ্যাত্মিক ও পর্যটন সৌন্দর্য উপভোগ শেষে হাসিমুখে বাড়ি ফেরা হলো না সাইফুল ইসলামের। পাঁচ বন্ধুর আনন্দভ্রমণ বিষাদে পরিণত হয়েছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল স্লিপার কোচের মুখোমুখি সংঘর্ষে সাইফুলের প্রাণহানির পাশাপাশি আরও ৮ জন নিহত হয়েছেন।
জানা যায়, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা থেকে গত মঙ্গলবার ৫ বন্ধু সিলেটে ঘুরতে আসেন। তারা হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতসহ সাদাপাথর ও বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ঘুরে দেখেন। আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থাকায় বৃহস্পতিবার রাতেই তারা দ্রুত বাড়ি ফেরার পরিকল্পনা করেন।
বন্ধুদের মধ্যে রানা ও জমরেদ বিমানে ফিরে গেলেও সাইফুল ইসলাম (সোহরাব), লতিফ ও ফারুক শুক্রবার ভোরের ইউনিক বাসে রওয়ানা হন।
দুর্ঘটনায় আহত ও বেঁচে ফেরা বন্ধু লতিফ জানান, বাসটি ঠিকভাবেই চলছিল। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বাসটি রাস্তা থেকে ছিটকে পাশের জমিতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই সাইফুলের কপাল ও মাথা ক্ষতবিক্ষত হয়ে মৃত্যু ঘটে।
এই দুর্ঘটনায় সাইফুল ছাড়াও সংগীতশিল্পী পেহেলি ভৈরবীসহ আরও ৮ জন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত সাইফুল ইসলাম কুলিয়ারচর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ছিলেন।
শেরপুর পুলিশ ফাঁড়িতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত সাইফুলের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পিবিআই অজ্ঞাত ৩ জনের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে।
বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো শেষ সুন্দর মুহূর্তগুলো এখন কেবলই শোকের স্মৃতি হয়ে রইল সাইফুলের পরিবার ও স্বজনদের কাছে।
