শিরোনাম
সিলেটে সংবাদকর্মীদের ওপর হামলা, কালের কণ্ঠের কবির হাসপাতালে গ্রিসে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার, অধিকাংশই বাংলাদেশি কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপরে, সিলেটে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা ওসমানীনগর ট্রাজেডি: এক শিশুসহ ৬ জনের পরিচয় মিলেছে ওসমানীনগরের সড়কে প্রাণ গেল সোবহানিঘাটের প্রীতমের সিলেটে হামের হানায় প্রাণ গেলো আরও দুই শিশুর, হাসপাতালে ৯৩ সিলেটে বন্ধুদের সাথে ভ্রমণ শেষে ফেরা হলো না সাইফুলের সিলেটে গান গাইতে এসে প্রাণ গেলো বাউল শিল্পী পেহেলী ভৈরবীর সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: শিশুসহ নিহত ৯ সরকার পতনের আগে-পরে শেখ পরিবারের সদস্যরা কে কোথায়

https://www.emjanews.com/

17624

sylhet

প্রকাশিত

০৭ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৫৩

আপডেট

০৭ আগস্ট ২০২৬ ২১:৫১

সিলেট

ওসমানীনগরের সড়কে প্রাণ গেল সোবহানিঘাটের প্রীতমের

প্রকাশ: ০৭ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৫৩

ছবি: দুর্ঘটনায় নিহত রায় প্রীতম।

সিলেটের ওসমানীনগরের ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল আরও এক লড়াকু তরুণের প্রাণ। নিহতদের তালিকায় থাকা ২২ বছর বয়সী সপ্তম রায় প্রীতম কেবল একজন ব্যক্তি ছিলেন না, ছিলেন একটি নিঃস্ব পরিবারের শেষ আশার আলো। প্রীতমের অকাল প্রয়াণে এখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবে গেছে তার বৃদ্ধ মা ও একমাত্র বোনের জীবন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রীতম সিলেট মহানগরীর সোবহানিঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে। ছোটবেলায় পানিতে ডুবে একমাত্র ভাইকে হারানোর পর সংসারের জোয়াল নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তিনি। অভাব-অনটনের সংসারে বৃদ্ধ মা আর বোনের মুখে হাসি ফোটানোই ছিল তার একমাত্র স্বপ্ন।

সেই স্বপ্ন পূরণ করতে শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন প্রীতম। কিন্তু সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল স্লিপার কোচের সেই ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষ প্রীতমকে আর গন্তব্যে পৌঁছাতে দেয়নি।

আরও পড়ুন: সিলেটে বন্ধুদের সাথে ভ্রমণ শেষে ফেরা হলো না সাইফুলের

প্রীতমের খালাতো বোনের জামাই কাজল ভৌমিক অশ্রুসজল চোখে বলেন, ‘ছোট ভাইটাকে হারানোর পর প্রীতমই ছিল পরিবারের একমাত্র খুঁটি। তার উপার্জনেই সংসার চলত। এখন এই বৃদ্ধ মা কার দিকে তাকিয়ে বাঁচবেন?’

প্রতিবেশী নরেন ভট্টাচার্য্য জানান, একের পর এক স্বজন হারানোর শোকে পাথর হয়ে গেছেন প্রীতমের মা। পুরো এলাকায় এখন শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঘটে যাওয়া ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন প্রাণ হারান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজন মারা যাওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ জনে।

বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও ১৪ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিবারের শেষ ভরসা প্রীতমের এমন বিদায়ে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের মাতম।