https://www.emjanews.com/

17873

surplus

প্রকাশিত

১৭ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪৩

অন্যান্য

নাছিমা কাদির মোল্লা স্কুলকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শোকজ

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪৩

ছবি: সংগৃহীত

নরসিংদীর নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের চলতি বছরের এসএসসিতে শতভাগ জিপিএ-৫ পাওয়ার কৃতিত্ব নিয়ে বড় ধরনের জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃত্রিমভাবে ফলাফলের উজ্জ্বল চিত্র ফুটিয়ে তুলতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার মতো অনৈতিক কৌশল অবলম্বনের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে বোর্ডের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে এই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকে নবম শ্রেণিতে ৬০১ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করলেও চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে মাত্র ৩৮২ জন। অভিযোগ উঠেছে, জিপিএ-৫-এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দশম শ্রেণির নির্বাচনি পরীক্ষায় অতি-কঠিন প্রশ্নপত্র তৈরি করে এবং কঠোর মূল্যায়নের মাধ্যমে ২১৯ জন শিক্ষার্থীকে ঝরে পড়তে বাধ্য করা হয়েছে। এমনকি এসব শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা জেলা প্রশাসনের কাছে ধরনা দিলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভাবের কারণে কোনো সুরাহা পাননি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভ এখন চরমে। এক অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, 'যে শিক্ষার্থীকে পাঁচ বছর ধরে এই স্কুলই পড়াল, টেস্ট পরীক্ষায় তাকে ফেল করিয়ে এসএসসির অযোগ্য ঘোষণা করার দায় কি শিক্ষকদের নয়? তারা কেবল ব্যবসায়িক প্রচারের জন্য আমাদের সন্তানদের জীবন থেকে একটি বছর কেড়ে নিয়েছে।' এমনকি অনেক শিক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে অন্য সাধারণ স্কুলে ভর্তি করিয়ে পরীক্ষা দেওয়াতে হয়েছে বলে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে।

ঢাকা বোর্ড তাদের আদেশে স্পষ্ট করেছে যে, প্রতিষ্ঠানের নাম ধরে রাখার জন্য শিক্ষার্থী ছাঁটাইয়ের এই প্রক্রিয়া বিধি পরিপন্থী। শোকজের জবাবে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে নাছিমা কাদির মোল্লা হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ একে 'অপপ্রচার' দাবি করে জানিয়েছে, তারা স্বচ্ছতার সাথেই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বোর্ডকে জবাব দেবেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ফলাফলের এই অসুস্থ প্রতিযোগিতা দেশের সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক অশনিসংকেত।