শিরোনাম
শপথ নিলেন নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রী সিলেটের হুমায়ুন কবির এবার মন্ত্রিসভায় রায়নগর ট্রিপল মার্ডার: বাসা ভাড়ার জন্য চুরি করতে বাসায় প্রবেশ, ধরা পড়ে একাই তিনজনকে খুন! সিলেটে আরও পাঁচ দিন বৃষ্টির পূর্বাভাস সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: আদালতে বাবুলের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি হবিগঞ্জে সংরক্ষিত বন থেকে গাছ কাটা-বিক্রি: বিএনপি নেতাসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে মামলা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন, চলছে গণনা সিলেটে ৩ খু/ন: রিমান্ড শেষে আদালতে বাবুল, দিবেন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী সাতছড়ি বনে মাটির নিচে মিললো বিপুল পরিমাণ পি/স্তল-গু/লি হবিগঞ্জের সাতছড়ি-রেমায় গাছ লু/টের ‘মাস্টারমাইন্ড’ কারা? গোপন নথিতে সরকারি দলের নেতাকর্মীসহ ৬২ জনের নাম

https://www.emjanews.com/

17962

sylhet

প্রকাশিত

২১ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪৮

আপডেট

২১ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫২

সিলেট

সুনামগঞ্জে মায়ের বিরুদ্ধে সাত বছরের শিশুকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার অভিযোগ

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০২৬ ১১:৪৮

শিশু নিহা ও সৎ মা আম্বিয়া ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় সাত বছর বয়সী শিশু জাকিয়া আক্তার নিহাকে হত্যার পর সুরমা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সৎমায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিশুটির সৎমা আম্বিয়া বেগমকে (৫০) আটক করেছে পুলিশ। নিহত শিশুর বাবা তাজ উদ্দিন বাদী হয়ে আম্বিয়া বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার কুরবাননগর ইউনিয়নের গোদারগাঁও এলাকা থেকে আম্বিয়া বেগমকে আটক করা হয়।

মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোদারগাঁও গ্রামের রাজমিস্ত্রি তাজ উদ্দিনের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি আম্বিয়া বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই প্রথম পক্ষের সন্তানদের সঙ্গে আম্বিয়ার বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ ও নির্যাতনের অভিযোগ ছিল।

গত ১৭ আগস্ট বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টার মধ্যে শিশু নিহা বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ওই সময় আম্বিয়া বেগম শিশুটিকে জোর করে সুরমা নদীতে গোসল করাতে নিয়ে যান। পরে নিহা একা বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়।

পরদিন ১৮ আগস্ট সুনামগঞ্জ সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সুরমা নদীতে শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি চালায়।

এরপর ১৯ আগস্ট সকাল ৬টার দিকে গৌরারং ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের কাছে সুরমা নদীতে ভাসমান অবস্থায় নিহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের ডান উরুর ওপরে ও নিচে দুটি গুরুতর কাটা জখমের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আম্বিয়া বেগম শিশুটিকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। পুলিশও জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আম্বিয়া তার সৎমেয়ে নিহাকে হত্যার পর বাড়ির পাশের সুরমা নদীতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে পুলিশ বলছে, শিশুটিকে হত্যার প্রকৃত কারণ কী, এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না এবং পুরো ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে; তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। আটক আম্বিয়া বেগম বর্তমানে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

সাত বছরের নিহার মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে সুনামগঞ্জের মানুষের মধ্যে শোক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর মাত্র এক সপ্তাহ আগেই পারিবারিক কলহের জেরে নিজের দুই শিশুসন্তানকে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল এক বাবার বিরুদ্ধে।

পুলিশের তথ্যমতে, দিরাইয়ের চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া মধুপুর গ্রামের কামরুল হাসান তার দুই সন্তান; সাড়ে তিন বছর বয়সী তুলনা আক্তার ও ছয় বছর বয়সী মুহাদ্দিসকে নিয়ে সিলেট থেকে দিরাই ফেরার পথে পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। পরে শান্তিগঞ্জের ডাবর এলাকায় ঘুমন্ত অবস্থায় তুলনাকে হাওরে ফেলে দেন তিনি। এরপর দিরাই সড়ক মোড় পার হয়ে একই হাওরে ছেলে মুহাদ্দিসকেও ফেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পরে শান্তিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সদর থানা পুলিশ পৃথক স্থান থেকে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের কাছে কামরুল দাবি করেন, স্ত্রী আফরোজা বেগমের সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের জেরেই তিনি দুই সন্তানকে হত্যা করেন। চার সন্তানের মধ্যে দুই শিশুকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়।

এক সপ্তাহের ব্যবধানে সুনামগঞ্জে একাধিক শিশুর এমন করুণ মৃত্যু পরিবার, সমাজ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পারিবারিক বিরোধের ভয়াবহ পরিণতি ঠেকাতে সচেতনতা ও দ্রুত আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।