শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সংসদে খন্দকার মুক্তাদিরের নতুন দায়িত্ব মেয়েদের উপবৃত্তি ফেরানোর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর সিলেট-তামাবিল সড়কে দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত মঙ্গলবার সিলেট আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটে এবার আরেক ব্যবসায়ীকে বাড়ির পাশে কুপিয়ে খু/ন সিলেটে সিএনজি অটোরিকশাকে বাসের ধাক্কা: মাদরাসাছাত্রী নিহ/ত, আহ/ত ৩ দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হলেন হুমায়ুন কবির বিশ্বের চাষযোগ্য জমির শতাংশে শীর্ষে বাংলাদেশ নুসরাত হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় সোমবার সিলেট-সুনামগঞ্জ সফরে মন্ত্রী আরিফুল হক, থাকছে একাধিক কর্মসূচি

https://www.emjanews.com/

18057

sylhet

প্রকাশিত

২৪ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪৫

আপডেট

২৪ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪৬

সিলেট

সংবাদ সম্মেলন

কানাইঘাটে কয়েকটি পরিবারকে হামলা-মামলায় হয়রানির অভিযোগ

প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ২০:৪৫

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বড়চতুল ইউনিয়নের কুড়ারপার গ্রামে কয়েকটি পরিবারকে হামলা, মামলা ও নানাভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। পরিবারের নারীরা রাস্তাঘাটে নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন না এবং শিশুরাও মক্তবে যেতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে কুড়ারপার গ্রামের বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম এসব বিষয় তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্রামের মুজিবুর রহমান ও তার ভাই মুহিবুর রহমান, সুয়েবুর রহমান, আলী আহমদ, সালমান, খলিলুর রহমান, জুবায়ের ও বাবুল আহমদসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। এ বিরোধের জেরে কয়েকটি পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে।

ফখরুল ইসলাম বলেন, বিরোধের সূত্রপাত প্রায় ১৬ বছর আগে কুড়ারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য বরাদ্দ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে। সে সময় মুজিবুর রহমান বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিলেট জেলা শিক্ষা অফিসে আবেদন করা হলে তদন্ত হয়। পরে মুজিবুর রহমান ওই অর্থ ফেরত দেন। এ ঘটনার পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ তীব্র হয়।

তিনি বলেন  স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিরসনে একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক চৌধুরী ও স্থানীয় মুরব্বিদের উদ্যোগে গত ১৭ জানুয়ারি বিষয়টি আপস-মীমাংসা করা হয়েছিল। তবে কয়েক মাসের মধ্যেই পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৫ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে জবরুল ইসলাম, শামীম আহমদ ও মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং নগদ টাকা ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় সিলেটের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করা হয়। মামলায় মুজিবুর রহমানসহ ৪২ জনকে আসামি করা হয়েছে। আদালত মুজিবুর রহমানসহ ২৬ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন বলে জানানো হয়।

ফখরুল ইসলামের বলেন, জামিনে মুক্তির পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। পরিবারের নারীরা অন্যের নলকূপ থেকে পানি সংগ্রহে বাধার মুখে পড়ছেন। মসজিদে যাওয়া, স্থানীয় দোকান থেকে শিশুদের প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা এবং স্বাভাবিকভাবে রাস্তায় চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে কয়েকটি পরিবার সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতিতে রয়েছে।

এ ছাড়া ৪ আগস্ট গ্রামের মসজিদের পাশে শামীম আহমদ হোসাইনকে আলী আহমদ, সালমান, লুকমান ও জুবায়েরসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারধর করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শামীমের মেয়েকেও আঘাত করা হয়। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা রক্ষা পান। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

ফখরুল ইসলাম আরও বলেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে চারটি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি খারিজ হয়েছে এবং দুটি বর্তমানে চলমান। তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনাগুলো তদন্ত, সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আব্দুল মুতলিব মেম্বার, হোসেন আহমদ শামীম, জবরুল ইসলাম, শমসুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, ইকবাল আহমদ, তোতা মিয়া, মোহাম্মদ, হাসন আহমদ, নুরুল ইসলাম প্রমুখ।