শিরোনাম
তনু হত্যা: পলাতক দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ওসমানীনগরে তিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৬, আহত অর্ধশতাধিক সিলেটে মন্ত্রীর বাসায় বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধন: দাওয়াত পাননি শীর্ষ নেতারা! প্রশাসনে রদবদল: একাধিক মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব ওসমানী হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সময়ের আগেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন সিলেটে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে সিলেট ট্রিপল মার্ডার: অভিজ্ঞদের দিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে আইজিপিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঠেকাতে সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ চলছে: সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে টাওয়ার থেকে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত লা/শ উদ্ধার

https://www.emjanews.com/

18278

national

প্রকাশিত

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩১

আপডেট

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩:১৮

জাতীয়

কৃষিজমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র, আপত্তির ২৭ দিন পরই অনাপত্তি

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩১

ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহের ভালুকায় কৃষিজমি ও বসতভিটার ওপর ৪৫ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত ১৭৩ একর জমির বড় অংশ চাষযোগ্য হলেও প্রথমে আপত্তি জানিয়েছিল কৃষি বিভাগ। পরে আপত্তির মাত্র ২৭ দিনের মধ্যে সংশোধিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকল্প উদ্যোক্তাকে অনাপত্তিপত্র দেওয়া হয়।

প্রকল্পটির উদ্যোক্তা ভাওয়াল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান তাসলিমা আক্তার, যিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী। স্থানীয়ভাবে প্রতিষ্ঠানটি এমপির মালিকানাধীন হিসেবে পরিচিত।

২৩ জুলাইয়ের যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, প্রস্তাবিত জমির ১৬৭ দশমিক ৮৪ একরের মধ্যে ৬৩ একর এক ফসলি জমি, যেখানে বোরো ধান চাষ হয়। স্থাপনা নির্মাণ হলে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ১৯ আগস্ট দেওয়া অনাপত্তিপত্রে ১৭৩ দশমিক ১৩ একর জমির মধ্যে ১৪১ দশমিক ৯৭ একরকে অকৃষি এবং ৩১ দশমিক ১৬ একরকে এক ফসলি জমি দেখানো হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান অভিযোগ করেছেন, পুরো জমিকে অকৃষি দেখিয়ে প্রত্যয়ন দিতে তাঁর ওপর চাপ ছিল। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ময়মনসিংহের উপপরিচালক মো. এনামুল হকও জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এলাকায় প্রায় ১৪০ একরের মতো চাষযোগ্য জমি রয়েছে।

তবে সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ কোনো ধরনের চাপ দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জমির সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ এক ফসলি এবং কমিটির সদস্যরা সরেজমিন ও ডিজিটাল ম্যাপের মাধ্যমে জমি যাচাই করছেন।

এদিকে স্থানীয় কৃষকেরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত এলাকায় আমন-বোরোসহ বিভিন্ন ফসল চাষ হয় এবং অনেকের বসতভিটাও প্রকল্পের আওতায় পড়েছে। তাঁরা জমি ছাড়তে নারাজ। কৃষিজমি রক্ষায় জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদনও করেছেন তাঁরা।

ময়মনসিংহে গত ১০ বছরে আবাদি জমি কমেছে ৪ হাজার ৫৭২ হেক্টর। এমন পরিস্থিতিতে চাষযোগ্য জমিতে সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সিদ্ধান্ত কৃষিজমি সুরক্ষা ও ভূমি ব্যবহারের নীতিমালা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।