ছবি: সংগৃহীত
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেটের ওসমানীনগর অংশে মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ। ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার মামলার প্রায় ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি।
সর্বশেষ গেলো মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার তাজপুর বাজারে অজ্ঞাতনামা মাছবাহী একটি ট্রাকের ধাক্কায় আহমদ আলী (২১) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মো. আলিম (৪৫) নামে এক ভ্যানচালক আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহত আহমদ আলী উপজেলার পশ্চিম মজলিসপুর গ্রামে বসবাস করতেন। তিনি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার মহিমাউড়া গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাবার সঙ্গে তাজপুর বাজারে লাকড়ির ব্যবসা করতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল সাড়ে ৬টার দিকে আহমদ আলী গাছের টুকরো ভর্তি একটি ভ্যান নিয়ে তাজপুর বাজার এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় সিলেটগামী একটি মাছবাহী ট্রাক দ্রুতগতিতে এসে ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। এতে আহমদ আলী সড়কে ছিটকে পড়ে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় ভ্যানচালক মো. আলিম আহত হন।
দুর্ঘটনার পর চালক ট্রাকটি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তবে সন্দেহজনক একটি গাড়ি আটক করা হয়েছে এবং সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত ২২ আগস্ট দুপুরে উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় তেলবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ চারজন নিহত হন। দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ দিন পর গত ৩০ আগস্ট আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচজনে।
এরও আগে গত ৭ আগস্ট উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় আহত হন আরও অনেকে।
স্থানীয়দের মতে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ চালকদের তন্দ্রাচ্ছন্নতা ও ঘুম। বিশেষ করে ভোর ও সকালে বড় ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। অনেক সময় তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় চালকরা স্টিয়ারিংয়ে বসেই ঢলে পড়েন। এর পাশাপাশি মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র পার্কিং, সড়কের পাশে ভাসমান দোকান, বাজারকেন্দ্রিক যানজট এবং মহাসড়কের ওপর মানুষের অবাধ চলাচল দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশের সংকীর্ণ ও বেহাল অবস্থা, ভারী ও দূরপাল্লার যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং নিষিদ্ধ ও ধীরগতির সিএনজি, ইজিবাইক ও টমটমের অবাধ চলাচলও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
এদিকে কাশিকাপন এলাকার দুর্ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে দুর্ঘটনার কারণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। গত ১৩ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় থাকলেও প্রায় ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন জমা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক ধীরগতির কারণেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া বিলম্বিত হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী চালকদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
তদন্ত প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ও ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা বলেন, এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়নি । কমিটির আহবায়ক আমার সিনিয়র স্যার জমা দিবেন।
দূর্ঘটনা প্রতিরোধে ঢাকা-সিলেট মহসড়কের ওসমানীনগরে অংশে ডিভাইডার স্থাপনে এমপি বরাবরে লিখিত চিঠি দেয়া হয়েছে।
গত ৭ আগস্ট কাশিকাপন এলাকায় ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনার পরদিন ৮ আগস্ট রাতে নিহত সাদমান জাহাঙ্গীর সৌরভের বড় ভাই মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে দুই বাসের চালককে আসামি করে ওসমানীনগর থানায় মামলা করেন। তবে মামলার প্রায় ২৬ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামি গ্রেপ্তার হয়নি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। কিছু গাড়ি জব্দ করা হয়েছে। তবে কখন কোন চালক গাড়ি চালিয়েছেন, তা নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করতে সময় লাগছে।
