সিলেট ট্রিপল মার্ডার: অভিজ্ঞদের দিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে আইজিপিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ
প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৩:০৪
ছবি: সংগৃহীত
সিলেট নগরের রায়নগরে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা চাঞ্চল্যকর মামলাটি অতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন-সংক্রান্ত সভায় বিষয়টি উঠে এলে তিনি পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) এ নির্দেশ দেন।
সভায় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী রায়নগরের ট্রিপল মার্ডারের বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের কাছে মামলাটির তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি জানতে চান।
এ সময় পুলিশ কমিশনার মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে বলে মন্ত্রীকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে মামলার এক আসামির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার বিষয়টিও জানান তিনি।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপিকে ফোন করে মামলাটি অতি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্তকাজ শেষ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার নির্দেশনা দেন। সভায় উপস্থিত একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে রায়নগরে নিহত আব্দুস সাত্তারের পরিবারের সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে জানিয়েছে বিএনপির একটি সূত্র। মঙ্গলবার জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের পর তারা মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান বলে জানা গেছে।
গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগর এলাকার নিজ বাসভবন থেকে আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে রঙমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি একাই তিনজনকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানা গেছে।
তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, এর পেছনে কোনো পরিকল্পনাকারী ছিল কি না এবং অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না; এসব বিষয় নিয়ে এখনো নানা প্রশ্ন রয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যসহ সিলেটের বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা চলছে।
পরিবারের সদস্যরা মামলার এজহারে সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি উল্লেখ করে আইনজীবী সিরাজুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশের পর মামলাটির তদন্তে নতুন করে গতি আসবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে; এমন প্রত্যাশা করছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।
