শিরোনাম
তনু হত্যা: পলাতক দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ ওসমানীনগরে তিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৬, আহত অর্ধশতাধিক সিলেটে মন্ত্রীর বাসায় বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধন: দাওয়াত পাননি শীর্ষ নেতারা! প্রশাসনে রদবদল: একাধিক মন্ত্রণালয়ে নতুন সচিব ওসমানী হাসপাতালের অধিকাংশ ডাক্তার সময়ের আগেই হাসপাতাল ত্যাগ করেন সিলেটে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে সিলেট ট্রিপল মার্ডার: অভিজ্ঞদের দিয়ে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে আইজিপিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঠেকাতে সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ চলছে: সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীমান্তে অপরাধ মোকাবিলায় ডিজিটাল প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিলেটে টাওয়ার থেকে বিজিবি সদস্যের ঝুলন্ত লা/শ উদ্ধার

https://www.emjanews.com/

18275

surplus

প্রকাশিত

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১০

আপডেট

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১২

অন্যান্য

সিলেটে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:১০

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।  আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ায় বিভাগের হাসপাতালগুলোতে তৈরি হয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপরও বাড়ছে চাপ।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম সন্দেহে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪১৫ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টাতেই নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১২১ জন।
বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের বরাতে জানিয়েছেন, সিলেটে হাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ।

একদিকে হাসপাতালে জায়গা সংকট, অন্যদিকে বছরের শুরু থেকে হাম ও হাম সন্দেহে ১৫৪ জনের মৃত্যু; সব মিলিয়ে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ যথেষ্ট কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সিলেটের মানুষ।

স্বাস্থ্য বিভাগের ২ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১২১ জনের মধ্যে ৬২ জন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে, ৪১ জন ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ৩ জন রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ১৪ জন মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এবং একজন সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে; ১৭৩ জন। ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছেন ১৩০ জন। অর্থাৎ সিলেটের এই দুটি প্রধান সরকারি হাসপাতালে একসঙ্গে ৩০৩ জন হাম সন্দেহে ভর্তি রয়েছেন।

এ ছাড়া রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৪ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ৪ জন, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩২ জন এবং গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সিলেট বিভাগের অন্যান্য জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৮ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৭ জন, বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ২১ জন হাম সন্দেহে ভর্তি আছেন।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন আক্রান্ত হয়েছেন। হবিগঞ্জের আক্রান্তদের মধ্যে রুবেলার দুই রোগীর তথ্যও রয়েছে।

তবে শুধু শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দিয়ে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝা যাচ্ছে না। কারণ বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং মৃত্যুও ঘটছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে ১৫৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সন্দেহজনক হাম রোগে ১৪৪ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জেলাভিত্তিক হিসাবে সিলেটে সন্দেহজনক হাম রোগে ৫৭ জন এবং নিশ্চিত হাম রোগে ৪ জনসহ মোট ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। হবিগঞ্জে ২১ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এক দিনে ১২১ জন নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে রোগীর চাপ এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। হাসপাতালগুলোর বিদ্যমান শয্যা, চিকিৎসক, নার্স, ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা-সুবিধার ওপর এ চাপ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বিশেষ করে সিলেটের প্রধান দুই সরকারি হাসপাতালে ৩০৩ জন সন্দেহজনক রোগী ভর্তি থাকা স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সিলেটের মানুষের অভিযোগ, পরিস্থিতি এতটা গুরুতর হওয়ার পরও হাম মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ যথেষ্ট বলে প্রতীয়মান হচ্ছে না। আক্রান্ত ও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, হাসপাতালে শয্যা সংকট তৈরি হচ্ছে এবং মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে—তারপরও পরিস্থিতি মোকাবিলায় দৃশ্যমান ও সমন্বিত উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও ওসমানী মেডিকেল কলেজের পরিচালকের বরাত দিয়ে রেডক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার সালামও সিলেটের হাম পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে শুধু হাসপাতালে রোগী ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়ার ওপর নির্ভর করলে হবে না। হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী চিহ্নিত করা, আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্ত ও পৃথক রাখা, প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং হাসপাতালের শয্যা ও জনবল বাড়ানো জরুরি।

সিলেটে বর্তমান পরিস্থিতি আর সাধারণ মৌসুমি রোগের বিস্তার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রতিদিন নতুন রোগীর হাসপাতালে ভর্তি, শত শত সন্দেহজনক রোগীর চিকিৎসাধীন থাকা এবং বছরের শুরু থেকে ১৫৪ জনের মৃত্যু; এসব তথ্য জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য গুরুতর সতর্কবার্তা।

পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আগেই সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে মাঠে নামতে হবে বলে মনে করছেন উন্নয়নকর্মী সালেহা চৌধুরী। তার মতে হাসপাতালগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত শয্যা ও চিকিৎসক-নার্সের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হাম প্রতিরোধে টিকাদান ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।