https://www.emjanews.com/

18266

sylhet

প্রকাশিত

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:২৬

আপডেট

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯:২৯

সিলেট

ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঠেকাতে সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের কাজ চলছে: সিলেটে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৮:২৬

ছবি: ইমজা নিউজ

বাংলাদেশে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক স্বৈরাচার, স্বৈরাচারী শক্তি, ফ্যাসিবাদী বা পেশিশক্তির উত্থান ঠেকাতে একটি নতুন সাংবিধানিক পদ্ধতি প্রবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি। তিনি বলেন, এ ধরনের একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে।

মঙ্গলবার বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেটের শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের এমন একটি সাংবিধানিক ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক স্বৈরাচারের উৎপত্তি হবে না, কোনো স্বৈরাচারী শক্তির উত্থান হবে না এবং ফ্যাসিবাদী বা পেশিশক্তিও মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সাম্যভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির ইতিহাসকে আন্দোলন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও ১৯ দফা কর্মসূচির ভিত্তিতে বিএনপি জনগণকেন্দ্রিক ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতি করে।

স্বাধীনতার ইতিহাসে জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি মেজর জিয়া বলছি, আমি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করছি’—এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে তিনি দেশের মানুষকে স্বাধীনতার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান দেশকে পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হওয়ার পথ থেকে রক্ষা করেছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু করেন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে উৎপাদনমুখী রাজনীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথও তৈরি করেন।

বিএনপির ১৯ দফা কর্মসূচিকে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতার কর্মসূচি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সামরিক স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৯০ সালে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনেও বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়।

নারীশিক্ষার অগ্রগতি, উপবৃত্তি ও অবৈতনিক শিক্ষাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যুবকদের কর্মস্পৃহা ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে বিএনপি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ওয়ান-ইলেভেন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরবর্তী সময়ে দেশে স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশ আবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং জনগণের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, শহীদদের স্বপ্ন এবং জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপির আদর্শ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

তারেক রহমান ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও মর্যাদা দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

ইমাম-মুয়াজ্জিন, বিভিন্ন ধর্মের পুরোহিত এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবার মর্যাদা নিশ্চিত করে একটি জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী এমপির সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য এম এ মালেক, সিলেট ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালক বদরুজ্জামন সেলিম, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিএনপির সহ ক্ষুদ্রঋণ ও কুঠিরশিল্প বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ প্রমুখ।