সিলেট বিভাগে হামের পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১১৯ জন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, চলতি বছরে সিলেট বিভাগে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫৭ জনে। ৫ সেপ্টেম্বর সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন সিলেট জেলার এবং অন্যজন বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা। তাদের দুজনেরই চিকিৎসা হয়েছে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে।
এদিকে, নতুন করে ভর্তি হওয়া ১১৯ জন রোগীর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৮ জন এবং সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৭ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ১৮ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ৪ জন এবং বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বেসরকারি হাসপাতালেও রোগী ভর্তি রয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৯৬ জন সন্দেহজনক হাম রোগী। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২০৫ জন এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬০ জন চিকিৎসাধীন। এছাড়া মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ৪২ জন, সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ২৯ জন এবং সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩১ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩৬৩ জন, হবিগঞ্জে ১৫৩ জন, মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। শনাক্তদের মধ্যে দুজন রুবেলা রোগীও রয়েছেন।
মৃত্যুর হিসাবেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সন্দেহজনক হাম রোগে সিলেটে ৬০ জন, হবিগঞ্জে ১৭ জন, মৌলভীবাজারে ১২ জন এবং সুনামগঞ্জে ৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে নিশ্চিত হাম রোগে সিলেটে ৪ জন, হবিগঞ্জে ৪ জন, মৌলভীবাজারে ১ জন এবং সুনামগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন করে দুই শিশুর মৃত্যু এবং এক দিনে ১১৯ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় বিভাগজুড়ে হামের প্রকোপ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ায় এ দুই এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।
তবে সর্বশেষ তথ্যে নতুন করে কোনো নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তারপরও সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
