ভোলায় গড়ে তোলা হবে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সার কারখানা : সংসদে প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫৩
ছবি: সংগৃহীত
ভোলার গ্যাস মূল ভূখণ্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে নিতে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই দীর্ঘ অপেক্ষা না করে ভোলাতেই গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা, সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে মহিলা আসন-১৭-এর সদস্য সুলতানা আহমেদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নিতে হলে তা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে। তাই সরকার বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। ভোলায় গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনের জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। অনেক শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে গ্যাস ব্যবহার করে শিল্পায়ন হলে ভোলায় ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
ভোলার গ্যাস জাতীয় স্বার্থে ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে একটি বড় সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
এ ছাড়া ভোলা জেলায় ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩১ মেয়াদি এ পরিকল্পনায় দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সুষম ও ভারসাম্যপূর্ণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোলার আঞ্চলিক বৈশিষ্ট্য, প্রাকৃতিক সম্পদ, মানুষের চাহিদা, উপকূলীয় জলবায়ু ঝুঁকি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে।
সংসদে জানানো হয়, ভোলার ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজ অপারেশনের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাসের ব্যবহার বাড়ার পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তাও জোরদার হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র ও উপকূলীয় সম্পদের কার্যকর ব্যবহার বাড়াতে প্রণীত পরিকল্পনায় ভোলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন কৌশলগত কাঠামোর আওতায় ভোলা জেলা ও আশপাশের দ্বীপগুলোকে ব্লু ইকোনমির কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
এই অঞ্চলে ইলিশ ও অন্যান্য মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, চরাঞ্চলে সমন্বিত কৃষি উন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ভোলার ভৌগোলিক অবস্থান, গ্যাসসম্পদ, উর্বর কৃষিজমি ও উপকূলীয় মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
