খুলনায় ‘ভাত চুরির’ অপবাদে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে ‘পিটিয়ে হত্যা’
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১:৫০
আজমুল হোসেন
খুলনা মহানগরীতে ‘ভাত চুরির’ তুচ্ছ অপবাদ দিয়ে আজমুল হোসেন (২১) নামের এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
শুক্রবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলাম নগর রোডের একটি চারতলা ছাত্রাবাসে এই বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে।
নিহত আজমুল চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় শলুয়া গ্রামের কুতুব উদ্দিনের ছেলে এবং নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। মাত্র দশ দিন আগে তিনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ইসলাম নগর রোডের ওই ছাত্রাবাসের ডি-২ কক্ষের বাসিন্দা ও মেস ম্যানেজার মেহেদীর খাবার খেয়ে ফেলার অভিযোগ তোলা হয় আজমুলের বিরুদ্ধে। এই তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মেহেদীসহ মেসের কয়েকজন ছাত্র ও বহিরাগতরা আজমুলকে ছাদে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করেন। একপর্যায়ে ছাদ থেকে ভারী কিছু পড়ার শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আজমুলকে গলিতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে মেসের ছাত্ররা তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিহতের সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং তার দুই পা ভাঙা ছিল।
নিহতের বাবা কুতুব উদ্দিন অভিযোগ করেছেন, হত্যার আগে আজমুলের মোবাইল ফোন থেকে তাকে কল দিয়ে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, 'রাত ১২টার পর ফোন দিয়ে বলা হয় আমার ছেলে ঝামেলা করেছে, তাকে পেতে হলে এক লাখ টাকা লাগবে। আমি গরিব কৃষক বলায় তারা দ্রুত খুলনায় আসতে বলে ফোন কেটে দেয়।' সকালে এসে তিনি ছেলের মরদেহ দেখতে পান। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেছেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার হুমায়ুন কবির জানান, হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের পরিবার মামলা না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করবে। অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এদিকে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক কানাই লাল সরকার ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন এই ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং পুলিশকে সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন।
