শিরোনাম
নিরাপত্তার চাদরে সিলেট: ৭ পয়েন্টে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাবে বিএনপি সিলেটে জনঘনিষ্ঠ ও যোগ্য প্রার্থী চায় বিএনপি: কপাল খুলবে কাদের? বাংলাদেশের বাজারে গুজরাটের ইলিশ, দুই মাসে আমদানি ৩৫২ টন মঙ্গলবার সিলেট আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মুক্তাদির দুদকের পরিদর্শনের পর সিলেট ওসমানীতে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার তলব সিলেটসহ সারাদেশে ৭ ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন, প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর শাবিতে শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্তের অভিযোগে বহিরাগত যুবক আ/ট/ক সিলেটে এক দিনে অর্ধশত গ্রেফ/তার সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় চার শিশুর মৃ/ত্যু ‘তৌহিদি জনতা’ নয়, এবার নৌকাবাইচ বন্ধ করতে চান ইউনিয়ন চেয়ারম্যান!

https://www.emjanews.com/

18683

economics

প্রকাশিত

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৪৬

অর্থনীতি

দুই সপ্তাহেও পে-স্কেলের গেজেট নেই, খসড়া এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়ে

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২০:৪৬

ছবি: সংগৃহীত

নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল ঘোষণার পর প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো এর প্রজ্ঞাপন (গেজেট) জারি হয়নি। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর দ্রুতই গেজেট প্রকাশের কথা থাকলেও খসড়া এখনো অর্থ মন্ত্রণালয়েই রয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নতুন বেতন কাঠামো অনুমোদন করা হয়। এরপর সপ্তাহখানেকের মধ্যে এটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। কিন্তু প্রায় দুই সপ্তাহ পার হলেও গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।

একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে গেজেট হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এরই মধ্যে দুই সপ্তাহ পেরিয়ে যাচ্ছে, এখনো গেজেটের কোনো খবর নেই। এ কারণেই সবার মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে- আবার কোথায় আটকে গেল!’

তবে সাবেক আমলারা বলছেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের জন্য বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। এ কারণে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে আরও বেশি সময় লাগতে পারে।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর গেজেট প্রকাশের জন্য যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়, তাতে কয়েক সপ্তাহ বা কখনো কয়েক মাসও লাগতে পারে। তবে দীর্ঘদিন পর নতুন পে-স্কেল ঘোষণার কারণে এবার মানুষের মধ্যে দ্রুত গেজেট পাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

কেন সময় লাগছে

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর প্রথমে অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত খসড়া তৈরি করা হয়। এ কাজ করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সাবেক সচিব ড. মো. আনোয়ার উল্ল্যাহ বলেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো প্রস্তাবে সাধারণত কোন গ্রেডে কত বেতন-ভাতা বাড়বে, তার একটি কাঠামো থাকে। কিন্তু অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে কীভাবে নতুন কাঠামো বাস্তবায়ন হবে, তার বিস্তারিত নির্দেশনা যুক্ত করতে হয়।

এতে বেসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), পুলিশ, সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে কার্যকর হবে, সেটিও উল্লেখ করতে হয়।

প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুত হওয়ার পর তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেখানে সংবিধান, প্রচলিত আইন ও চাকরিবিধির সঙ্গে এর কোনো সাংঘর্ষিক বিষয় রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। একই সঙ্গে খসড়ায় ব্যবহৃত আইনগত শব্দ ও পরিভাষার যথার্থতাও পরীক্ষা করা হয়।

প্রয়োজনীয় ভেটিং শেষে খসড়া আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর চূড়ান্ত খসড়া সরকারি মুদ্রণালয় বা বিজি প্রেসে পাঠানো হয়। মুদ্রণ শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এখনো আইন মন্ত্রণালয়ে যায়নি খসড়া

তবে মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের প্রায় দুই সপ্তাহ পরও নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়নি।

আইন মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গত সপ্তাহে তারা শুনেছিলেন, এক-দুই দিনের মধ্যে অনুমোদিত পে-স্কেলের খসড়া ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। কিন্তু এখনো তা মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অবশ্য এটিকে খসড়া আটকে থাকা হিসেবে দেখতে নারাজ। তিনি বলেন, গেজেট প্রকাশের আগে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে কিছুটা সময় লাগছে।

বর্তমানে সামরিক-বেসামরিক বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কীভাবে নতুন কাঠামোর আওতায় কার্যকর হবে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাসহ প্রজ্ঞাপনের খসড়া প্রস্তুতের কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, দ্রুতই খসড়াটি ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এর আগে কত সময় লেগেছিল

চলতি বছরের আগে সরকারি চাকরিজীবীদের সর্বশেষ জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। ওই বছরের ৭ সেপ্টেম্বর অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়। এরপর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ১৫ ডিসেম্বর চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা জড়িত থাকায় প্রজ্ঞাপন জারির আগে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই ও প্রশাসনিক প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। এবারও সেই প্রক্রিয়ার কারণেই কিছুটা সময় লাগছে বলে দাবি অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের।