শিরোনাম
নতুন করে যাচাই হবে জুলাইযোদ্ধাদের তালিকা, বাদ পড়াদের আবেদনের সুযোগ জানা গেল সরকারি চাকুরিতে শূন্য পদের সংখ্যা সাবেক এমপি সুলতান মনসুর ফের গ্রেপ্তার সিলেটে ৮৫ পূজামণ্ডপে সিসিকের সর্বাত্মক প্রস্তুতি চাকরির আশায় রাশিয়ায়, যুদ্ধে প্রাণ গেল ২০ বাংলাদেশির: এসআরবি পানি-মোটরসাইকেল যেনো কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে শাবির সম্ভাবনাময় তরুণদের: ১০ মাসে ঝরল ৭ প্রাণ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নি/হ/ত সিলেটে ২৪ ঘণ্টায় নতুন হাম শনাক্ত ও মৃত্যু নেই, ভর্তি ১২৩ ওসমানী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু সিলেটে মোটরবাইকের ধাক্কায় প্রাণ গেল কিশোরের

https://www.emjanews.com/

19040

sylhet

প্রকাশিত

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০৫

আপডেট

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০৯

সিলেট

চাকরি বাংলাদেশে, চার নার্স বসবাস করেন ইউরোপে

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:০৫

ছবি: সংগৃহিত।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ও একজন মিডওয়াইফ কোনো ধরনের বৈধ ছুটি বা দাপ্তরিক অনুমোদন ছাড়াই বছরের পর বছর কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। সরকারি চাকরি বহাল রেখেই এই চার স্বাস্থ্যকর্মী বর্তমানে পরিবার নিয়ে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানা যায়। গুরুত্বপূর্ণ চার কর্মী দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকায় হাসপাতালের নার্সিং সেবায় চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

অনুপস্থিত কর্মীদের মধ্যে সিনিয়র স্টাফ নার্স মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম ২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে, রুহুল আমীন ২০২২ সালের ২৭ ডিসেম্বর থেকে এবং মিডওয়াইফ সুবি বেগম ২০২৩ সালের ৬ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে আসছেন না। এছাড়া অপর সিনিয়র স্টাফ নার্স মান্না বেগমও দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত রয়েছেন।

বিদ্যমান সংকট দূর করতে এবং অনুপস্থিত কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে পদগুলো শূন্য ঘোষণা করতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর লিখিত আবেদন জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আরিফুর রহমান নয়ন।

শুধু নার্স সংকটই নয়, উপজেলায় প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র এই ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। হাসপাতালে ৪১ জন চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১১ জন। ২৫ জন সিনিয়র স্টাফ নার্সের জায়গায় কাজ করছেন মাত্র ৮ জন। ২টি ফার্মাসিস্ট পদের দুটিই শূন্য থাকায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী দিয়ে বাধ্য হয়ে ওষুধ বিতরণ করতে হচ্ছে।

 এছাড়া জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে প্যাথলজি ল্যাব এবং প্রায় ৮ বছর ধরে এক্স-রে সেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে অযত্নে ও ধুলাবালিতে নষ্ট হচ্ছে লাখ লাখ টাকার চিকিৎসাসামগ্রী। হাসপাতালে কোনো আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন নেই। একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটি জীর্ণ হওয়ায় জরুরি মুহূর্তে মুমূর্ষু রোগীদের জেলা শহরে স্থানান্তর করতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচও) ডা. আরিফুর রহমান নয়ন বিভিন্ন দপ্তরে প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদা জানিয়ে একাধিকবার পত্র দিলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

অভিযুক্তদের বক্তব্য জানতে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কাউকেই পাওয়া যায়নি। কয়েকটি নম্বর বন্ধ থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসী এ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর কার্যকর হস্তক্ষেপে দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও শূন্য পদগুলো পূরণ করা হলে দীর্ঘদিনের সংকট অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা করছেন।

এতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইনডোর ও আউটডোর চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক ও গতিশীল হবে এবং প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ভোগান্তিও কমবে।