ক্যারিয়ারের শুরুতেই ডেঙ্গুতে প্রাণ গেল চিকিৎসক ডা. আঁচল রায়ের
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২২:১০
ডা. আঁচল রায়
চিকিৎসা পেশায় সাফল্যের পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ডা. আঁচল রায়। মাত্র ৩০ বছর বয়সেই ইন্টারনাল মেডিসিনে এফসিপিএস মিড-টার্ম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের এমআরসিপি পরীক্ষার প্রথম পর্বও সফলভাবে সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। তবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আকস্মিক মৃত্যুতে থেমে গেল সম্ভাবনাময় এই তরুণী চিকিৎসকের পথচলা।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ডা. আঁচল। সকাল ৮টা ২০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস।
স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর প্রথম ৪ দিন বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছিলেন আঁচল।
পঞ্চম দিনে তার রক্তে প্লাটিলেটের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রথমে তাকে স্কয়ার হাসপাতালের এইচডিইউতে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
ডা. আঁচল রায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে পদায়িত ছিলেন। সম্প্রতি তাকে একই হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছিল। দায়িত্ব পালনের সময় তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবাতেও যুক্ত ছিলেন।
স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাস জানান, এফসিপিএস মিড-টার্ম ও এমআরসিপি পার্ট-ওয়ান পরীক্ষায় আঁচলের সাফল্যে তাঁরা দুজনই আনন্দিত ছিলেন। তাঁর পেশাগত অগ্রগতি নিয়ে তিনি গর্বিত ছিলেন বলেও জানান বিপ্লব।
নোয়াখালী মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময় বিপ্লবের সঙ্গে আঁচলের পরিচয় হয়। তিন বছরের সম্পর্কের পর প্রায় ১৭ মাস আগে তাদের বিয়ে হয়। বিপ্লব বর্তমানে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (নিপোর্ট) কর্মরত।
ঢাকায় বেড়ে ওঠা ডা. আঁচল রায়ের দাদাবাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। ৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি।
এদিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চলতি বছর সারাদেশে ডেঙ্গুতে ২২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ১২৮ জন।