শিরোনাম
সিলেটে নদীর পাড়ে শতাধিক গু/লি, সাথে গ্রে/নে/ড দেশজুড়ে ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ দফায় দফায় বৈঠকেও কাটেনি অচলাবস্থা, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষকদের মুক্তি দিলেন না আন্দোলনকারীরা অপতথ্য প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: সিলেটের ডিসি ‘সিলেট হবে দেশের প্রথম প্লাস্টিক দূষণমুক্ত শহর’ টানা আন্দোলনের মুখে পরিবর্তন: সিকৃবির নতুন ভিসি শফি উল্লাহ সিলেটে যে কারণে ধরা পড়লেন ৩৩ জন সিলেটে একদিনে ১৬ জনের দেহে হাম শনাক্ত: মৃ/ত্যু ১ জনের জার্মানিতে ক্যারিয়ার গড়তে ‘অপরচুনিটি কার্ড’ ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ ফেরানোর ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

https://www.emjanews.com/

19137

weather

প্রকাশিত

২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:১৩

আবহাওয়া

দেশজুড়ে ভ্যাপসা আবহাওয়ার কারণ বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ

আগামীকাল ফিরতে পারে কিছুটা স্বস্তি

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০০:১৩

ছবি: সংগৃহীত

আশ্বিনের মাঝামাঝি, অথচ শরতের স্বস্তির বদলে দেশজুড়ে গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। তীব্র রোদের সঙ্গে যোগ হয়েছে ভ্যাপসা আবহাওয়া-ঘরে-বাইরে কোথাও যেন স্বস্তি নেই। হঠাৎ এমন অস্বস্তিকর গরমের পেছনে রয়েছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গভীর নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে গেলে বদলে যেতে পারে বাতাসের প্রবাহ। তাতে আগামীকাল দিনে কমতে পারে ভ্যাপসা গরম, ফিরতে পারে কিছুটা স্বস্তি।

শরতে স্বস্তির বদলে ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছেন সিলেটের মানুষ। সকাল থেকে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় অস্বস্তি বাড়ছে, দুপুর গড়াতেই পরিস্থিতি হয়ে উঠছে আরও কষ্টকর। এর মধ্যে বিদ্যুতের লোডশেডিং যেন সেই ভোগান্তিতে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। ঘরে-বাইরে কোথাও মিলছে না স্বস্তি; বিদ্যুৎ চলে গেলে গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।

সিলেট নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, দিনের পাশাপাশি রাতেও গরমের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ঘাম ঝরছে অনবরত। ফ্যান কিংবা বৈদ্যুতিক পাখা চালিয়েও স্বস্তি মিলছে না। তার ওপর বিদ্যুৎ চলে গেলে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

নগরের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, দিনের বেলায় গরমে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। আবার রাতে ঘুমানোর সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়ছে। গরমের মধ্যে লোডশেডিং হওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের কষ্ট সবচেয়ে বেশি।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ‘সাগরে যখন কোনো নিম্নচাপ বা সিস্টেম তৈরি হয়, তখন তুলনামূলকভাবে আমাদের ভূখণ্ড বা স্থলভাগ বেশ গরম হয়ে ওঠে। এ কারণেই গত দুই-তিন দিন ধরে এমন ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।’

তিনি বলেন, গভীর নিম্নচাপটি সোমবার রাতের মধ্যেই স্থলভাগে উঠে যেতে পারে। এটি উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে স্থল নিম্নচাপ হিসেবে চট্টগ্রাম উপকূলের কাছাকাছি আসতে পারে। এর প্রভাবে চট্টগ্রামের দিকে কিছুটা বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

নিম্নচাপটি চলে যাওয়ার পর উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাতাস আসা শুরু হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলেও জানান এই আবহাওয়াবিদ।

চার সমুদ্রবন্দরে সতর্কতা

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উত্তর আন্দামান সাগর ও এর কাছাকাছি মিয়ানমার উপকূলে অবস্থানরত নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। সোমবার বেলা তিনটায় গভীর নিম্নচাপটি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৮০ কিলোমিটার এবং কক্সবাজার থেকে ৮১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। একই সময়ে এটি মোংলা থেকে ১ হাজার ৮০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ছিল।

গভীর নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৮ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার। দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে এ গতি ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে থাকা মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সিলেটে তাপমাত্রা ৩৭.৬ ডিগ্রি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে-৩৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে সিলেটের মানুষের জন্য গরমের অস্বস্তি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

সোমবার ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ, রাঙামাটি ও বান্দরবানে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আপাতত সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে গভীর নিম্নচাপটি স্থলভাগে উঠে যাওয়ার পর বাতাসের প্রবাহ পরিবর্তিত হলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে।

এরই মধ্যে সিলেটের মানুষের অপেক্ষা এখন সেই স্বস্তির। একদিকে ভ্যাপসা গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকার ভোগান্তি-দুইয়ে মিলে নগরজীবনে তৈরি হয়েছে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি। বৃষ্টি ও বাতাসের পাশাপাশি নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহও এখন নগরবাসীর কাছে বড় প্রত্যাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।