শিরোনাম
সিলেটসহ সারাদেশে প্রাথমিকের নতুন শিক্ষকদের পদায়ন পেছালো নিজের ঘর সামলান, তারপর অন্যকে নসিহত: জামায়াতকে প্রধানমন্ত্রী ‘হুজুর মাথা টিপার কথা বলে রুমে ডেকে প্যান্ট খুলে ফেলতেন’-নির্যাতিত শিশুর বর্ণনা কুলাউড়ায় খাসিয়া পুঞ্জিতে তাণ্ডব, ৮ হাজারের অধিক পানগাছ কর্তন​ সিলেটে ভারতীয় অ/স্ত্রসহ কোটি টাকার চালান জব্দ সিলেটে যে ভাইরাসে হলো কিশোরের প্রাণহানী এবার কাজীরবাজার মাদ্রাসায় শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ২০২৮ সালের মধ্যে সিলেট অংশের ছয় লেনের কাজ শেষ হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেট প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত: কোর্ট পয়েন্টে অবস্থান সিলেটে বাণিজ্যমন্ত্রী: উন্নয়নকাজে অনিয়ম ঠেকাতে দরকার স্থানীয়দের নজরদারি

https://www.emjanews.com/

19238

national

প্রকাশিত

০১ অক্টোবর ২০২৬ ২১:০১

জাতীয়

যে দেশের যে চাহিদা, সেই দক্ষতার শ্রমিক পাঠাবে বাংলাদেশ: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬ ২১:০১

আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি।

শুধু বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা বাড়ালেই দেশের অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, এমপি।

তিনি বলেছেন, বিদেশের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী পাঠাতে চায় সরকার। যে দেশের যে ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে, সেই অনুযায়ী কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে বিদেশে পাঠানো হবে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে ‘চট্টগ্রামের সার্বিক শ্রম পরিস্থিতি পর্যালোচনা, কর্মক্ষেত্রে পেশাগত স্বাস্থ্য ও শোভন কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা বিদেশে কোয়ালিটি সম্পন্ন দক্ষ শ্রমিক পাঠাতে চাই। বিদেশ থেকে যে ধরনের চাহিদা আসে, সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে কর্মীদের দক্ষ করে পাঠানো হবে।’

তিনি বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আমরা দক্ষ শ্রমিক তৈরি করব। ওইসব দেশের চাহিদা অনুযায়ী শ্রমিক পাঠানো হবে।’

কর্মক্ষেত্রে শ্রমিক দুর্ঘটনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনার শিকার হলে যাতে তিনি ন্যায্য বিচার পান, সে জন্য সরকার যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

তিনি জানান, শ্রমিক দুর্ঘটনার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে একজন বিচারপতি, একজন আইনজীবী এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি টিম গঠনের ব্যবস্থা করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘যাতে তাৎক্ষণিকভাবে কালক্ষেপণ না করে অন দ্য স্পটে গিয়ে একটা সিদ্ধান্তে যেতে পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে শ্রমিকরা ন্যায্য বিচার পাবে।’

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে শ্রমিকদের সচেতনতা ও প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেন শ্রমমন্ত্রী।

তিনি বলেন, জাহাজভাঙা শিল্পসহ বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে কীভাবে সচেতনতা বাড়ানো যায়, সে জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

‘এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের সচেতনতার বিকল্প নেই। প্রয়োজনে শ্রমিক বেল্টে গিয়ে মাসখানেক ধরে সচেতনতা প্রোগ্রাম চালাতে হবে’—বলেন তিনি।

দুর্ঘটনার পর শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা না দিয়ে কিছু টাকা দিয়ে বিদায় করে দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিষয়টি নিয়ে শ্রমিক প্রতিনিধি, মালিকপক্ষ ও প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, চট্টগ্রামে শ্রমিক-মালিকের যেসব সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে, সেগুলো একদিনের সমস্যা নয়। এসব পুঞ্জীভূত সমস্যা থেকে বের হয়ে আসতে সরকার কাজ করছে।

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে এসব সমস্যার কতটুকু সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে একটি কর্মপরিকল্পনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

বন্ধ হয়ে থাকা বিভিন্ন কারখানা চালুর বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের সময়ে দেশের কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিয়ে তা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এর ফলে কিছু মিল-কারখানা বন্ধ হয়ে রয়েছে।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যাংকের অর্থসংকটের কারণে বিভিন্ন মিল-কারখানা লে-অফ হচ্ছে। সরকার শ্রমিকদের বাঁচিয়ে রাখা এবং তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।

‘আইনের ভেতর দিয়ে বন্ধ কারখানাগুলোকে কীভাবে সচল করা যায়, আমরা সেই চেষ্টা করছি। আপনি চাইলেই একটা প্রাইভেট প্রোপার্টির ওপর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আইনি প্রক্রিয়ায় আমরা কাজগুলো করছি’—বলেন শ্রমমন্ত্রী।

কারখানাগুলো বন্ধ না করে কীভাবে সচল করা যায়, সে বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।

সভায় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, আবু সুফিয়ান ও সাঈদ আল নোমান, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞাসহ মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।