শিরোনাম
বিদায় নিচ্ছে মৌসুমি বায়ু: সিলেটে মিললো যে পূর্বাভাস সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন ইউনিটের ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পরোয়ানা দুর্গাপূজায় সিলেটে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মার্কেট-শপিংমল ইসলামপন্থি একটি পক্ষের আপত্তির মুখে সুনামগঞ্জে নারী ফুটবল ম্যাচ স্থগিত সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না চুনারুঘাটে আধাঘণ্টার ব্যবধানে দুই রোগীর মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ সিলেটে রাসেল হ/ত্যাকান্ডের মা/মলায় আ/সামী ৩৭, গ্রেফ/তার নেই সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার সিলেটে শুরু বড় ধরনের অভিযান: টার্গেটে কিশোর গ্যাং সিলেটসহ ৬ শহরে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলায় জেলায় মাস্টারপ্ল্যান: প্রধানমন্ত্রী

https://www.emjanews.com/

19349

sylhet

প্রকাশিত

০৫ অক্টোবর ২০২৬ ২১:৩৯

সিলেট

সিলেটে দখলে বিলুপ্তপ্রায় ‘উজান গঙ্গাপুর খাল’, বিপাকে কৃষক-বাসিন্দারা

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ২১:৩৯

ছবি: সংগৃহীত

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে দখল ও ভরাটে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে ‘উজান গঙ্গাপুর খাল’। একসময় গঙ্গাপুর হাওর থেকে পানি নিষ্কাশন ও কৃষিজমিতে সেচের অন্যতম মাধ্যম এই খালটি এখন কোথাও বসতঘর, কোথাও সড়ক নির্মাণের নিচে চাপা পড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষায় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় খালের আশপাশের বাড়িঘরেও দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের গঙ্গাপুর গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গঙ্গাপুর হাওর থেকে শুরু হয়ে কুশিয়ারা নদীতে গিয়ে মিশেছে ‘উজান গঙ্গাপুর খাল’। তবে বর্তমানে খালের বেশির ভাগ অংশেরই কোনো অস্তিত্ব নেই। কোথাও খাল ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বসতঘর, আবার কোথাও মাটি ফেলে তৈরি করা হয়েছে যাতায়াতের রাস্তা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাটের কারণে খালটি সংকুচিত হতে হতে এখন প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এতে গঙ্গাপুর হাওর থেকে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে কৃষিজমিতে সেচের পানিও মিলছে না আগের মতো।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে খালটির দখল শুরু হয়। মুজিববর্ষ উপলক্ষে খালের পাশের সরকারি খাসজমিতে আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়। ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের ওই এলাকায় প্রকল্পের ঘর উদ্বোধন ও উপকারভোগীদের কাছে জমির দলিল হস্তান্তরের পর ধীরে ধীরে খালের বিভিন্ন অংশ দখল ও ভরাট হতে থাকে বলে অভিযোগ তাদের।

পরবর্তীতে খালের আশপাশে বসবাসকারীদের কেউ কেউ খাল ভরাট করে নিজেদের যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরি করেন। এতে পানি প্রবাহ আরও বাধাগ্রস্ত হয়। কৃষকরা বলছেন, খালের পানি ব্যবহার করে একসময় সহজেই জমিতে সেচ দেওয়া গেলেও এখন সেই সুযোগ নেই। ফলে বাড়তি খরচ করে সীমিত পরিসরে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে তাদের।

গঙ্গাপুর গ্রামের বাসিন্দা আফতাব আলী, জুনাব আলী ও ইসমাঈল আলী বলেন, ‘একসময় এই খাল থেকেই সহজে জমিতে পানি সরবরাহ করা যেত। খাল দিয়ে নৌকাও চলত। এখন বিভিন্ন অংশ ভরাট করে বসতঘর ও রাস্তা বানানো হয়েছে। ফলে খালটি প্রায় মৃত হয়ে গেছে।’

কৃষক কুলেন্দ্র দাস ও অনন্ত দাস বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে এই খাল দিয়ে নৌকা চলাচল করত। কুরকুছি হাওর ও গঙ্গাপুর হাওর থেকে মৎস্যজীবীরা এই পথ দিয়ে কুশিয়ারা নদীতে যেতেন। অথচ এখন বর্ষা মৌসুমেও খালে পানি থাকে না।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ায় শুধু কৃষিকাজই ব্যাহত হচ্ছে না, বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন নিয়েও ভোগান্তিতে পড়ছেন আশপাশের বাসিন্দারা। স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারে না। এতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা বাড়ে।

এলাকাবাসী দ্রুত খালটির সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ, ভরাট অংশ পুনরুদ্ধার এবং পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, খালটি পুনরুদ্ধার করা গেলে একদিকে কৃষিজমিতে সেচের সুবিধা ফিরবে, অন্যদিকে বর্ষায় পানি নিষ্কাশনও স্বাভাবিক হবে।

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা আক্তার বলেন, ‘বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। খালের মালিকানা সরকারি (খাস) কিংবা ব্যক্তি মালিকানাধীন-যেটিই হোক না কেন, জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শুধু তদন্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত খালটির প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ করে দখলমুক্ত ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।