শিরোনাম
বিদায় নিচ্ছে মৌসুমি বায়ু: সিলেটে মিললো যে পূর্বাভাস সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন ইউনিটের ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পরোয়ানা দুর্গাপূজায় সিলেটে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে মার্কেট-শপিংমল ইসলামপন্থি একটি পক্ষের আপত্তির মুখে সুনামগঞ্জে নারী ফুটবল ম্যাচ স্থগিত সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৯ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না চুনারুঘাটে আধাঘণ্টার ব্যবধানে দুই রোগীর মৃত্যু, ভুল চিকিৎসার অভিযোগ সিলেটে রাসেল হ/ত্যাকান্ডের মা/মলায় আ/সামী ৩৭, গ্রেফ/তার নেই সব নাগরিকের জন্য নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার সিলেটে শুরু বড় ধরনের অভিযান: টার্গেটে কিশোর গ্যাং সিলেটসহ ৬ শহরে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, জেলায় জেলায় মাস্টারপ্ল্যান: প্রধানমন্ত্রী

https://www.emjanews.com/

19351

law-justice

প্রকাশিত

০৫ অক্টোবর ২০২৬ ২২:০৭

আইন আদালত

সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন ইউনিটের ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে পরোয়ানা

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ২২:০৭

ছবি: সংগৃহীত

আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু দিনের পর দিন আদালতে হাজির হচ্ছেন না পুলিশের এসব সদস্য। ফলে আটকে আছে সাক্ষ্যগ্রহণ, দীর্ঘ হচ্ছে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন মামলায় ‘পুলিশ সাক্ষী’দের হাজির করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ ইউনিটগুলোকে একের পর এক ‘অতীব জরুরি’ চিঠি পাঠাতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জারি হচ্ছে সমন, এমনকি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একাধিক দাপ্তরিক চিঠি পর্যালোচনা করে জানা গেছে, বর্তমানে কর্মরত এবং দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে বদলি হওয়া প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। তাদের মধ্যে কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও সদস্য রয়েছেন।

সাক্ষী হিসেবে আদালতে হাজির হওয়ার কথা থাকলেও এসব পুলিশ সদস্যের অনুপস্থিতির কারণে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণে জট তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে পুরোনো মামলাগুলোর বিচার এগিয়ে নিতে আদালত থেকে বারবার তাদের হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা কার্যকর হচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পুলিশ সদস্যরা বদলি হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে কর্মরত থাকায় আদালতের সমন বা নির্দেশনা যথাসময়ে তাদের কাছে পৌঁছানো এবং হাজিরা নিশ্চিত করাও অনেক ক্ষেত্রে জটিল হয়ে পড়ছে। ফলে আদালত থেকে পরোয়ানা জারির পর সংশ্লিষ্ট ইউনিটের মাধ্যমে তাদের হাজির করার উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব সাক্ষীর কেউ বর্তমানে চট্টগ্রামে কর্মরত, আবার কেউ রয়েছেন সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কক্সবাজার, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও ইউনিটে। অনেকে কর্মরত আছেন পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট- সিআইডি, পিবিআই, নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও এসবিতেও।

সিএমপির উপকমিশনার (সদর) দপ্তর থেকে গত ৩ অক্টোবর দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে পাঠানো একটি চিঠি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৮টি পৃথক স্মারকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর কাছে পুলিশ সদস্যদের আদালতে হাজির করার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চিঠিগুলোতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নির্ধারিত তারিখে সকাল ৯টায় আদালতে হাজিরা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতে তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

একাধিক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নাম, পদবি, কর্মস্থল এবং যে মামলায় তাদের সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

আইনজীবীরা বলছেন, কোনো মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বা ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য সাক্ষী হলে কর্মস্থল বদল হলেও তার সাক্ষ্য দেওয়ার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। কিন্তু বাস্তবে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় কিংবা এক ইউনিট থেকে অন্য ইউনিটে বদলির পর অনেক পুলিশ সদস্য আদালতে হাজির হচ্ছেন না।

ফলে মামলার ধারাবাহিক সাক্ষ্যগ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কোনো কোনো মামলায় একাধিক তারিখে সাক্ষী হাজির না হওয়ায় শুনানি পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে পুরোনো মামলার বিচার শেষ হতে আরও সময় লাগছে।

আদালতসংশ্লিষ্টদের মতে, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার সাক্ষীদের সময়মতো আদালতে হাজির করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে পুলিশের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা সাক্ষী হলে তাদের হাজিরা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

এদিকে, বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি পুলিশের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং আদালতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সমন্বয়ের ঘাটতিকেও সামনে এনেছে। আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ফলে একদিকে বছরের পর বছর ধরে বিচারাধীন মামলা, অন্যদিকে সাক্ষী হিসেবে পুলিশের সদস্যদের অনুপস্থিতি—দুইয়ের টানাপোড়েনে চট্টগ্রামের আদালতগুলোতে মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।