‘ঘুষ খাওয়ার জন্যই পুলিশের পোশাক পরেছি’, হবিগঞ্জে এএসআইয়ের বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬ ২২:৩৭
ছবি: সংগৃহীত
‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই’- হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের এমন বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ভূমিকা ও তদন্তে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তে গিয়ে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন ওই বক্তব্য দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ সময় উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তাঁর বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রায় এক মিনিটের ওই ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! কথা বুঝছ না? আমি যদি বলি, আমি পুলিশের দারোগা, আমি ঘুষ খাই না, আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব, হইব নাকি? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
স্থানীয় সূত্র জানায়, রানীগাঁও বাজারের ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে সেখানে গিয়েছিলেন এএসআই ইলিয়াস হোসাইন। ওই সময় স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতেই তিনি এসব কথা বলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার তদন্তে এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, ঘুষ ছাড়া তিনি মামলার তদন্তে আগ্রহ দেখান না।
এর আগে উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের টেকারঘাট গ্রামে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে করা একটি মামলার তদন্তেও তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল বলে স্থানীয়রা জানান। অভিযোগ রয়েছে, মামলার বিবাদীপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তিনি বাদীকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেন এবং ভয়ভীতি দেখান।
তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম তাঁর এলাকার ‘বড় ভাই’—এমন পরিচয় দিয়ে এএসআই ইলিয়াস হোসাইন থানায় এবং তদন্তকাজে প্রভাব খাটান। তবে এ অভিযোগেরও কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির বিষয়ে জানতে এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’ এরপর তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভিডিওটি আমি দেখেছি। এটি যাচাই করে দেখা হচ্ছে। কোন প্রেক্ষাপটে এ কথা বলেছেন, তাঁর (এএসআই ইলিয়াস হোসাইন) সঙ্গে বসে বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।’
ভিডিওটির বক্তব্যের প্রেক্ষাপট এবং এএসআই ইলিয়াস হোসাইনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখনও জানা যায়নি।
