শিরোনাম
জেলা প্রশাসকের প্রেসরিলিজ: ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহার বাংলাদেশের মত ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ পৃথিবীর মধ্যে আর কোথাও নেই- বাণিজ্যমন্ত্রী রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলায় নিহত ৩, ক্ষতিগ্রস্ত উড়োজাহাজ সিলেটে সুরমায় নির্মিত হবে ঝুলন্ত সেতু, সক্ষমতা বাড়বে কিনব্রিজের চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে দেশবিক্রির অভিযোগ অমূলক-বাণিজ্যমন্ত্রী দক্ষিণ সুরমায় রাসেল হত্যা মামলা: সুনামগঞ্জ থেকে ছাত্রদল নেতা ফাহিম ও সামাদ গ্রেফতার ​ চেলা নদীর পাড় কেটে ৫ কোটি টাকার বালু লুট, ৩৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা সিলেটের সুরমায় নতুন সেতু: নির্মাণের স্থান পরিদর্শনে আসছেন বাণিজ্যমন্ত্রী ৩ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: আনোয়ারুজ্জামানের সাবেক এপিএসের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা সিলেট সীমান্তে ধরা পড়লো দেড় কোটি টাকার পণ্য

https://www.emjanews.com/

19456

national

প্রকাশিত

০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৩

জাতীয়

‘বাবা-মায়ের সবচেয়ে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়’, ছাত্রদল নেতার স্ট্যাটাসে ক্ষোভ

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:৩৩

ছবি: সংগৃহীত

‘বাবা-মায়ের সবচেয়ে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়’- সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমন মন্তব্য করে স্ট্যাটাস দিয়েছেন নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম। তাঁর এ মন্তব্য ঘিরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্য করেন মাজহারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়।

ফেসবুক পোস্টে মাজহারুল ইসলাম লেখেন, ‘জল পাঠা সাংবাদিকের নিউজ হলো জলপরী নিউজ। কিছু কিছু সাংবাদিক দেখলে মনে হয় বাবা-মায়ের সব থেকে অকর্মা সন্তানগুলোই সাংবাদিক হয়।’

সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্যকে অবমাননাকর উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

জানা গেছে, নরসিংদীর মনোহরদীতে একটি পুকুরে ‘জলপরী’ দেখা গেছে- এমন গুজব ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি কিছু গণমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মাজহারুল ইসলাম ওই স্ট্যাটাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

তবে নিজের মন্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘সব সাংবাদিক সৎ কিংবা ভালো না। আমি সকল সাংবাদিককে বলিনি, কিছু সাংবাদিককে বলেছি।’

‘জলপরী পাওয়া গেছে’- এমন কোনো সংবাদ মূলধারার সাংবাদিকেরা করেছেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আসলে পুরো নিউজ পড়িনি কিংবা পুরো ভিডিও নিউজও দেখিনি। স্ক্রল করতে গিয়ে যেটুকু সামনে এসেছে, সেটুকুই দেখেছি।’

মাজহারুল ইসলাম নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নরসিংদী কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

এদিকে সাংবাদিকদের নিয়ে এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক বিশ্বজিৎ সাহা। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক সমাজকে অবমাননা করে এরকম স্ট্যাটাস প্রত্যাশিত নয়। যারা কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও সাংবাদিকদের গুলিয়ে ফেলেন, তারাই এমন শব্দচয়ন করে স্ট্যাটাস দিতে পারেন। সাংবাদিক হচ্ছে সমাজের দর্পণ। তাদের নিয়ে এমন মন্তব্য কখনোই কাম্য নয়।’

এদিকে মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ রয়েছে, আলোকবালী এলাকায় ইট, বালু ও সিমেন্টের ব্যবসার সঙ্গে তিনি জড়িত। এ ছাড়া স্থানীয়দের বাড়িঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে তাঁর কাছ থেকেই নির্মাণসামগ্রী নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে তিনি স্থানীয়দের ওপর প্রভাব বিস্তার করেন। নির্ধারিত দামে বা তাঁর কাছ থেকে ইট-বালু না কিনলে বাড়িঘর কিংবা স্থাপনা নির্মাণে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি চাঁদা দাবির অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সেবন এবং মাদক ব্যবসায় পরোক্ষভাবে সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মাজহারুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকদের নিয়ে তাঁর ফেসবুক পোস্ট এবং তাঁকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে নরসিংদীর সাংবাদিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।