সুনামগঞ্জে সাবেক সেনাসদস্যর মৃত্যু রহস্য উদ্ঘাটন ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ ১৯:০৬
ছবি: সংগৃহীত
‘আমি ভাই হারিয়েছি। আমি চাই না, এ দেশের আর কেউ যেন ভাইহারা না হন। আমার ভাইয়ের মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন করে আমাদের পরিবারকে এই অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি দিন।’- কথাগুলো বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজলের বড় ভাই শিক্ষক ফজলুল করিম বুলবুল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বাদশাগঞ্জ বাজারে ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ আকুতি জানান।
এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, নিহতের স্বজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। তাঁরা ফজলুর রহিম কাজলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং তাঁদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।
মানববন্ধনে ধর্মপাশা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাদশাগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি জুলফিকার আলী ভুট্টো বলেন, ‘জুলাই-পরবর্তী আমরা নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এ নতুন বাংলাদেশে এ ঘটনা কেউ আশা করে না। এ ঘটনার সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে অবিলম্বে বিচার কার্যকরের দাবি জানাচ্ছি।’
বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সংস্কারক খায়রুল বশর ঠাকুর খান বলেন, ‘এটি শুধু হত্যাকাণ্ড নয়, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। অবিলম্বে হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনানুগ সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন নিহতের মামা তোফাজ্জল হোসেন তালুকদার। সঞ্চালনা করেন মো. মুখলেছুর রহমান।
এতে বক্তব্য দেন সেলবরষ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবু তাহের সোনা মিয়া, সেলবরষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফরিদ খোকা, নিহতের বড় ভাই শিক্ষক ফজলুল করিম বুলবুল, সেলবরষ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আহম্মদ আলী, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. নাসির উদ্দিন এবং নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফজলুল হকসহ অন্যরা।
নিহত ফজলুর রহিম কাজলের বয়স ৫৫ বছর। তিনি ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের মৃত জবান আলীর ছেলে। সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে হিসাবরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর সকালে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের টাকা উত্তোলনের উদ্দেশ্যে ব্যাংকে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হন ফজলুর রহিম কাজল। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি। ওই দিন রাতে তাঁর ছেলে মারুফ হাসান রনক ধর্মপাশা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের দুই দিন পর, গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার সকালে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর গ্রামসংলগ্ন কংস নদের পাড়ের একটি জঙ্গল থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মরদেহটির গলায় রশি প্যাঁচানো ছিল এবং সেটি গাছের ডালে বসানো অবস্থায় পাওয়া যায়।
ফজলুর রহিম কাজলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং এর পেছনে কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। মানববন্ধন থেকে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। তাঁদের প্রত্যাশা, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে পরিবারটি ন্যায়বিচার পাবে এবং মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে।
