হাইকোর্ট
দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে বর্তমানে ৩০৩ জন শিশু রয়েছে বলে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর। এদের মধ্যে সিলেট বিভাগের পাঁচটি কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে রয়েছে ১৯ শিশু। এসব শিশুর নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, খেলনা, পোশাক ও শিশুখাদ্য সরবরাহের কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় তাদের পছন্দের নিকটাত্মীয়ের হেফাজতে অথবা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার সুপারিশ করেছে অধিদপ্তর।
এর আগে গত ১৫ জুন দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সংখ্যা ও বয়সের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানতে কারা কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তবে কারা কর্তৃপক্ষ এখনো সেই প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী কামরুন নাহার মাহমুদ দীপার দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ ও রুল জারি করেন।
রুলে কারাগারে থাকা শিশুদের নিরাপত্তা, কল্যাণ, শিক্ষা, সুষ্ঠু বিকাশ ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ও ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটির পর রিটটির চূড়ান্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির মাধ্যমে কারাগারে মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হয়। তাদের প্রয়োজনীয় খেলনা, পোশাক ও শিশুখাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। শিশুদের কল্যাণ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে তাদের পরিবারের উপযুক্ত সদস্যদের কাছে কিংবা সরকারি শিশু পরিবারে রাখার বিষয়টি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে।
এদিকে, কারা অধিদপ্তরের ২৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৪টি কেন্দ্রীয় ও জেলা কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে ছিল ২৯৯টি শিশু। তাদের মধ্যে ১৫৩ জন কন্যাশিশু এবং ১৪৬ জন ছেলেশিশু। এসব শিশুর মায়েদের বড় একটি অংশ মাদক মামলার আসামি। তাঁদের মধ্যে কেউ সাজাপ্রাপ্ত, আবার কারও মামলা বিচারাধীন। সবচেয়ে বেশি শিশু রয়েছে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সিলেট বিভাগের পাঁচটি কারাগারে ১৯, ঢাকা বিভাগের ১৮টি কারাগারে মায়েদের সঙ্গে রয়েছে ১০০ শিশু। চট্টগ্রাম বিভাগের ১২টি কারাগারে ৯০, রাজশাহী বিভাগের আটটি কারাগারে ২৫, রংপুর বিভাগের আটটি কারাগারে ২৫, খুলনা বিভাগের ১০টি কারাগারে ২০, ময়মনসিংহ বিভাগের চারটি কারাগারে ১৩ এবং বরিশাল বিভাগের ছয়টি কারাগারে চারটি শিশু ছিল।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বর্তমানে ৩০৩ শিশুর কথা বলা হলেও কারা অধিদপ্তরের ২৬ এপ্রিলের হিসাবে এ সংখ্যা ছিল ২৯৯। দুই প্রতিবেদনের তথ্যের সময়কাল ও সংখ্যার পার্থক্যের কারণ স্পষ্ট নয়। তবে কারাগারে থাকা এসব শিশুর নিরাপত্তা, পরিচর্যা, শিক্ষা ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করার বিষয়টি আদালতের বিবেচনায় রয়েছে।
