সৌদিতে জ্বালানি স্থাপনা আরামকোর দফতরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:০৭
ছবি: সংগৃহীত
সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলার ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি সংস্থা আরামকোর সদর দফতর চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী। মঙ্গলবার গভীর রাতে চালানো এ হামলায় একটি প্রশাসনিক ভবনে আগুন ধরে যায়। তবে এতে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ধাহরানে আরামকোর সদর দফতর চত্বরে একটি অফিসে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। পরে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানায়, হামলায় আরামকোর একটি প্রশাসনিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনটিতে আগুন লাগলেও তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। এ বিষয়ে আরামকোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, একই রাতে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় একটি তেল শোধনাগারেও হামলার ঘটনা ঘটে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সানার আল-সাবা এলাকায় একটি জ্বালানি প্রতিষ্ঠানের শোধনাগারে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হুথি-সমর্থিত সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সেখানে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের বক্তব্য, হামলার আগে সংশ্লিষ্ট এলাকা খালি করার জন্য সতর্ক করা হয়েছিল। সানায় হামলার পরপরই সৌদি আরবে আরামকোর দফতর চত্বরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।
এদিকে, হুথিদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে একাধিক বাঙ্কার-সুবিধাযুক্ত রাজপ্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর একটি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর থেকে তাঁকে আর জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাতে রিয়াধ ও দক্ষিণ সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং দুটি ড্রোন ছোড়া হয়েছিল। জোটের দাবি, সেগুলো প্রতিহত করা হয়েছে।
আরামকোর দফতরে হামলা এবং ইয়েমেনে পাল্টা হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
