ছবি: সংগৃহীত
একসময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় ছিল বাংলাদেশের কাছে নিয়মিত ঘটনা। টানা ১৯ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছিল বাংলাদেশ। সেই চিত্র এখন অতীত। সাম্প্রতিক সময়ে পাল্টে গেছে দুই দলের লড়াইয়ের সমীকরণ। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই তার প্রমাণ দিল জিম্বাবুয়ে। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১৭২ রানে অলআউট হয়েছে তাওহীদ হৃদয়ের দল। ফলে বাংলাদেশ হেরেছে ৯৯ রানে।
রান তাড়ায় শুরুতে তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটে কিছুটা আশার আলো দেখা গেলেও তা স্থায়ী হয়নি। একের পর এক ব্যাটারের ব্যর্থতায় দ্রুত ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে প্রয়োজনীয় ধৈর্য, জুটি ও দায়িত্বশীল ব্যাটিং- কোনোটিই দেখাতে পারেননি বাংলাদেশের ব্যাটাররা।
তানজিদ ও সৌম্য সরকার উদ্বোধনী জুটিতে ৪৭ রান যোগ করেন। সৌম্য ১৭ বলে ৯ রান করে ফিরলেও আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান তানজিদ। ৩৮ বলে ৪৬ রান করে তিনিও সাজঘরে ফেরেন। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত করেন মাত্র ৪ রান। ৬৮ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর দায়িত্ব ছিল মাঝের সারির ব্যাটারদের। কিন্তু কেউই ইনিংস বড় করতে পারেননি। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় করেন ১৩ রান। সাইফ হাসানের ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান। মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ফেরেন দলের ১১২ রানের মাথায়, পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে।
এরপর আরও দ্রুত ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং। নুরুল হাসান সোহান, শরিফুল ইসলাম ও রিশাদ হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের অপরাজিত ১৬ রানও পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর বাইরে আর কিছু করতে পারেনি।
এর আগে বল হাতে অবশ্য দারুণ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান ও তাফাদজওয়া সিগাকে ফিরিয়ে প্রতিপক্ষকে শুরুতেই চাপে ফেলেন তাসকিন।
তবে ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের জুটি ম্যাচের চিত্র বদলে দেয়। চতুর্থ উইকেটে দুজন যোগ করেন ১৫০ রান। ৮১ রান করে টেলর ফিরলেও এক প্রান্ত আগলে রেখে ব্যাটিং চালিয়ে যান আরভিন। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে শরিফুল ইসলামের বলে ৯৩ রানে থামে তাঁর ইনিংস।
শেষ দিকে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও নিউম্যান নিয়ামুরির অবিচ্ছিন্ন ৩৭ রানের জুটিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৩টি উইকেট নেন। শরিফুল ইসলাম ও সাইফ হাসান ২টি করে এবং রিশাদ হোসেন ১টি উইকেট শিকার করেন। শুরুতে দুর্দান্ত বোলিং করেও মাঝের ওভারগুলোতে টেলর-আরভিনের জুটি ভাঙতে না পারার খেসারত দিতে হয় বাংলাদেশকে।
একসময় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের টানা ১৯ ওয়ানডে জয়ের রেকর্ড ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুই দলের ব্যবধান কমেছে। ২০২৫ সালে সিলেটে টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে হারারেতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জেতে তারা। এবার নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেও বাংলাদেশের বিপক্ষে বড় জয় তুলে নিল দলটি।
এশিয়ান গেমসে ব্যর্থতার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভালো করার প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের এমন বিপর্যয় দলের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটারদের দায়িত্বহীনভাবে উইকেট হারানো হতাশ করেছে সমর্থকদের।
ত্রিদেশীয় সিরিজে আগামী বুধবার শারজায় আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ফাইনালে উঠতে পারলে শুক্রবার একই মাঠে শিরোপার লড়াইয়ে নামার সুযোগ থাকবে। তবে তার আগে ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই হবে দলের প্রধান চ্যালেঞ্জ। কারণ ওয়ানডেতে আফগানিস্তানও এখন বাংলাদেশের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ।
